প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ গুটিবসন্ত নির্মূলের তিন দশকের বেশি পরও এ রোগের জীবিত ভাইরাসের মজুদ ধ্বংস করতে অস্বীকার করেছে আমেরিকা। বর্তমানে আমেরিকা ও রাশিয়ার দু’টি কঠোর প্রহরাধীন গবেষণাগারে এ ভাইরাসের মজুদ রয়েছে। ভাইরাসটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য চলতি মাসের শেষ দিকে আবার বৈঠকে বসবেন বিশ্বের স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা।
ওষুধ এবং অধিকতর নিরাপদ টিকা তৈরির গবেষণায় সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে জীবিত গুটিবসন্তের মজুদ। এ রোগ যদি আবার কখনো দেখা দেয় সে আশঙ্কা থেকে এ টিকা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী হামলা বা গবেষণাগারের দুর্ঘটনায় কারণে এ রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে কিনা তাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিশ্বে এ জীবিত গুটিবসন্তের ভাইরাসের মজুদ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য আছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী এ রোগে কেবল বিংশ শতকেই মারা গেছে ৩০ কোটি মানুষ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গুটিবসন্তে আক্রান্ত মানুষদের এক তৃতীয়াংশই বেঘোরে প্রাণ হারিয়েছেন।
১৯৭৯ সালে বিশ্ব থেকে গুটিবসন্ত নির্মূল হয়ে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্য দেশগুলো অনেক আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, এ রোগ নির্মূলের পর জীবিত ভাইরাসের মজুদ ধ্বংস করে ফেলা হবে। তবে এ ভাইরাস ঠিক কখন ধ্বংস করা হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত সে সময়ে নেয়া হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, গুটি বসন্তের ভাইরাসের মজুদ ধ্বংসের সময় এখনো আসেনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে। কিন্তু এ ভাইরাস ধ্বংসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বারবার স্থগিত রেখেছে এ সম্মেলন। বর্তমানে গুটিবসন্ত বিরোধী নতুন প্রজন্মের টিকা রয়েছে এবং এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে বহুল কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাও বাজারে আসার পথে রয়েছে। এছাড়া, একদিকে এ ভাইরাসের জেনেটিক গঠনের বিশদ তথ্য জানা হয়ে গেছে। অন্যদিকে সিনথেটিক বায়োলজির কল্যাণে ‘কৃত্রিমভাবে' এ ভাইরাস তৈরি সম্ভব হয়ে উঠছে। অবশ্য এ প্রযুক্তির শুভ এবং অশুভ দু’টি দিকই রয়েছে।
এদিকে, থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্কের লিম লি চিং মনে করেন- ভ্যারাইওলা নামের গুটিবসন্তের ভাইরাস ধ্বংসের সময় এসেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষ নিয়ে লবি করার তৎপরতার নিযুক্ত এবং গুটিবসন্তের ভাইরাস ধ্বংসের বিষয়টি সমর্থন করছে এ সংস্থা। লিম লি চিং বলেন, গুটিবসন্ত নিয়ে গবেষণা কার্যকরভাবে সফল হয়েছে এবং এ ভাইরাসের মজুদ ধ্বংসের পক্ষে যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি জোরালো যুক্তি রয়েছে।
গুটিবসন্ত নির্মূল কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডা. ডি.এ. হেন্ডারসন। বর্তমানে অলাভজনক সংস্থা ইউপিএমসি সেন্টার ফর হেলথ সিক্যুরিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। ভ্যারাইওলা ভাইরাস ধ্বংস করে এ বিষয়টি নিষ্পত্তি করা উচিত বলে মনে করেন হেন্ডারসনও।–েআইআরআইবি।
সূত্র - দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

