একসময় ম্যালেরিয়া অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে খ্যাতি পাওয়া খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় এখন এই রোগের প্রকোপ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সর্বশেষ ২০০৮ সালে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ছয় জনের মৃত্যুর পর গত পাঁচ বছরে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে কোনো মানুষের মৃত্যু হয়নি। ২০১৩ সালে আগের বছরের তুলনায় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে শতাধিক। বর্তমানে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।
সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য অধিপ্তর ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক কাজ করছে। এতে ম্যালেরিয়া অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত উপজেলায় মাত্র তিনজন ব্যক্তি ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছে।
ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, ২০১২ সালে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ছয় হাজার ৯৩৬ জন মানুষের রক্ত পরীক্ষা করে মাত্র ৮২০ জন মানুষের মধ্যে ম্যালেরিয়া রোগ পাওয়া গেছে। ২০১৩ সালে সাত হাজার ৩২৩ জন মানুষের রক্ত পরীক্ষা করে ম্যালেরিয়া রোগ পাওয়া গেছে সাত শ জনের মধ্যে। তাঁরা ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়েছেন। ২০১২ সালের চেয়ে ২০১৩ সালে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে এক শ জন। ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির দীঘিনালা শাখা ব্যবস্থাপক বিল্টু চাকমা বলেন, ‘আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে ম্যালেরিয়া রোগ সম্পর্কে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করেছি। ম্যালেরিয়া রোগের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে দীঘিনালার পাঁচটি ইউনিয়নে ২০০৮ সালে ৩৭ হাজার ৩৮৫ ও ২০১১ সালে ৫৫ হাজার ৩৮১ জনকে বিনা মূল্যে মশারি বিতরণ করা হয়।’
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত ম্যালেরিয়ার প্রকোপ থাকে। কিন্তু গত কয়েক বছর থেকে ক্রমাগত ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা কমেছে। মৃত্যুর হারও শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সাধারণ ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৩৯ হাজার জন। ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত মারা গেছে ১৮৬ জন। ২০০৯ সাল থেকে ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত কমতে থাকে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসা কর্মকর্তা নিশান চাকমা বলেন, ‘আমরা ছোটকালে দেখেছি দীঘিনালায় প্রতিবছর ম্যালেরিয়ায় মানুষ মারা যেত। এখানে ম্যালেরিয়ার সেই প্রকোপ আর নেই। সাধারণ মানুষ ম্যালেরিয়া রোগ সম্পর্কে সচেতন হয়েছে। আর সে কারণে রোগীর সংখ্যা কমেছে এবং মৃত্যুর হারও শূন্যের কোটায় এসেছে। ম্যালেরিয়া নির্মূলে মাঠপর্যায়ে ব্র্যাকের সঙ্গে আমরা যৌথভাবে কাজ করছি।’
সূত্র - প্রথম আলো

