স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে যখন-তখন কেনাকাটা চলছে। এ কেনাকাটার মধ্যে গাড়ি থেকে শুরু করে চিকিত্সা-সরঞ্জামও রয়েছে। এতে একদিকে সরকারি টাকার অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে রোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে সেবা থেকে। বিষয়টি জানেন স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তারাও। তবুও তারা কিনেই যাচ্ছেন। কারণ সরকারি টাকায় যত কেনাকাটা তত কমিশনের পয়সা। একেকটি যন্ত্র কিনলে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যেমন কমিশন পান, তেমনি খরচ বেশি দেখিয়ে টাকাও মারেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আমাদের সময়ের অনুসন্ধানে রাজধানীসহ দেশের দুই শতাধিক সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতির একটি হিসাব পাওয়া গেছে। তাতে দেখা গেছে, কোনও-কোনও হাসপাতালে প্রয়োজনীয় বলে কেনাকাটা করে কয়েক বছর পরও সেসব যন্ত্রপাতি বসানো সম্ভব হয়নি। এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার না হয়ে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। মেশিনগুলোর মধ্যে রয়েছে ডায়ালাইসিস মেশিন, এমআরআই মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, ফ্লউরোস্কপি মেশিন, এনেসথেসিয়া মেশিন, এক্স-রে মেশিন, ওটি টেবিল, ডিস্টিল ওয়াটার প্ল্যান মেশিন, স্টিম স্টেরিলাইজার, ওটি লাইট, অটোক্লেভ মেশিন, বেবি ইনকিউবেটর, কার্ডিয়াক মনিটর, ফটোথেরাপি মেশিন, ল্যাপারোস্কপি মেশিন, মাইক্রোস্কোপ, সেন্ট্রিফিউজ মেশিন, জেনারেটর।
চিকিত্সা-যন্ত্রপাতি ও অপারেশন থিয়েটারের এ রকম বেহাল অবস্থার কারণ কোথাও স্থান সংকুলান না হওয়ায় যন্ত্র বসানো যাচ্ছে না, কোথাও ডাক্তার- টেকনোলজিস্টের অভাব, আবার কখনও মেরামত না হওয়ায় হাতের নাগালে পেয়েও সুফল থেকে বঞ্চিত হয় সাধারণ মানুষ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যন্ত্র অপ্রয়োজনেই কেনা হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন বাক্সবন্দি হয়ে যন্ত্রগুলো নষ্ট হয়। আবার প্রয়োজনে যন্ত্র কিনলেও অনেক সময় দেখা যায় অল্পদিনেই অকেজো হয়ে পড়ে। যেমন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর সরকারি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে একটি এক্স-রে মেশিন দেওয়া হয়েছিল ২০০৯ সালে। কিছুদিন যেতে না যেতেই মেশিনটি নষ্ট হয়ে পড়ে। আর খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে ২০০৬ সালে এক্স-রে মেশিনটি সরবরাহের পর আর চালুই হয়নি। বানিয়াচং উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি কেনার পর চালু হয়নি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। রেডিওগ্রাফার পদ না থাকার পরও মেশিনটি কিনে সরকারি অর্থ অপচয় করা হয়েছে। পিরোজপুর সদর হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন দেওয়া হয়েছিল ২০১০ সালের ২৫ অক্টোবর। দীর্ঘদিন মেশিনটি অব্যবহূত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ বলেন, অপ্রয়োজনে কেনাকাটা ও দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক নয়। তবে এ কথা ঠিক যে সরকারি হাসপাতালগুলোর
যন্ত্রপাতি নষ্ট ও বাক্সবন্দি আছে। এগুলো এখন সচল করা হবে।
সূত্র - দৈনিক আমাদের সময়

