গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের দূষিত দুর্গন্ধযুক্ত পানির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিশ্ব ইজতেমায় আসা মুসল্লিরা। পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন অনেকে।
গত শনিবার সকাল ১০টায় টঙ্গীর বাটা গেটে সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র, বিকেলে মুন্নু গেটের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও রোববার সকাল নয়টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া নয়জন মুসল্লির সঙ্গে কথা হয়। তাঁদের মধ্যে ছয়জনই তুরাগতীরবর্তী ২০ থেকে ৪০ নম্বর খিত্তার মুসল্লি।
দিনাজপুরের আবু তালেব ২৩ জানুয়ারি থেকে ২১ নম্বর খিত্তায় ছিলেন। তিনি জানান, শনিবার সকালে হঠাৎ করেই তাঁর বমি শুরু হয়। অস্বস্তি বাড়ায় তিনি চিকিৎসকের কাছে আসেন।
৩৪ নম্বর খিত্তার মুসল্লি কুষ্টিয়ার মো. জয়নাল ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি জানান, তিনি না বুঝেই তুরাগের পানি ব্যবহার করেছেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার মুসল্লি হাফেজ জোনাইদ আহমেদ ও ভোলার লালমোহন উপজেলা থেকে আসা মুসল্লি আমিনুল হকসহ কয়েকজন বলেন, নামাজের আগমুহূর্তে অজু করার স্থানে দীর্ঘ সারি পড়ে যায়। তুরাগের পানি ব্যবহারের উপযোগী হলে তাঁরা ওই পানিই ব্যবহার করতে পারতেন। কিন্তু দুর্গন্ধে ওই পানির পাশেই যাওয়া যায় না।
১৯৮৫ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন টঙ্গীর পাশেই ঢাকার দক্ষিণখানের বাসিন্দা মো. ফজলুর রহমান (৬৫)। ২৪ জানুয়ারি তুরাগতীরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, একসময় তুরাগের পানিতেই অজু-গোসল করা যেত। এখন তুরাগের পানির দুর্গন্ধে আশপাশেও থাকা যায় না।
ফজলুর রহমান বলেন, তুরাগ দূষিত হয়ে পড়ায় সরকার ইজতেমার লাখ লাখ মুসল্লির অজু-গোসল, রান্না, খাওয়া ও শৌচাগারের জন্য পরিষ্কার পানির ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু অনেকেই প্রথমবারের মতো ইজতেমায় এসে না বুঝে ও সময়ের অভাবে তুরাগের দূষিত পানি ব্যবহার করে রোগাক্রান্ত হচ্ছেন।
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের ইজতেমা স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র জানায়, ২৩ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চার দিনে এক হাজার ৮১ জন ঠান্ডাজনিত, ৯৬৩ জন শ্বাসকষ্টজনিত, ৩৬১ জন চর্মরোগ ও ২০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মুসল্লিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ইজতেমা মাঠের পাশে মুসল্লিদের চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে কয়েক হাজার মুসল্লি চিকিৎসা নিয়েছেন।
ইজতেমা উপলক্ষে সরকারের নিযুক্ত স্বাস্থ্য শিক্ষাবিদ মো. শাকিল হোসেন জানান, তুরাগ নদের দূষিত পানি যেকোনোভাবে মানুষের দেহের সংস্পর্শে এলেই হাঁপানি, মাথা ধরা, বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট, চর্ম ও ডায়রিয়ার মতো রোগ হতে পারে।
গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, তুরাগের তীরে গড়ে ওঠা কলকারখানার দূষিত তরল বর্জ্যই পানি দূষণের প্রধান কারণ। টঙ্গী বিসিক এলাকাসহ আশপাশের কারখানার অপরিশোধিত তরল বর্জ্য নালার মাধ্যমে তুরাগে ফেলা হয়। তা ছাড়া পয়োবর্জ্য ও হাটবাজারের বর্জ্যও পানি দূষিত করেছে।
তুরাগ নদ দূষণমুক্ত করার ব্যাপারে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, গাজীপুর ও ঢাকার পরিবেশ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) মাধ্যমে নিয়মিত তুরাগতীরের বিভিন্ন কারখানাকে জরিমানা করার সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক করা হচ্ছে।
সূত্র - প্রথম আলো

