খুলনার সরকারি ১০ হাসপাতালের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ে আছে। যার কারণে খুলনা জেনারেল হাসপাতাল ও জেলার নয়টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন।
স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার লাখ লাখ সাধারণ মানুষ।
খুলনার সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেনারেল হাসপাতাল এবং নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪টি এক্সরে মেশিনের মধ্যে ১০টিই অচল হয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র জেনারেল হাসপাতালের দুটি, দাকোপে একটি ও তেরখাদার একটি মোট চারটি এক্সরে মেশিন ভালো আছে।
বাকি ডুমুরিয়ার একটি এবং ফুলতলা একটি মেশিন দীর্ঘদিন যাবৎ নষ্ট। বটিয়াঘাটা, দিঘলিয়ার, রূপসা, পাইকগাছার ও কয়রার মেশিনগুলো বর্তমান অচল হয়ে পড়েছে।
জেলার নয় উপজেলা ও খুলনায় জেনারেল হাসপাতালের মধ্যে শুধুমাত্র জেনারেল হাসপাতাল এবং ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুটি ইসিজি মেশিন রয়েছে। এর মধ্যে নষ্ট রয়েছে ফুলতলার মেশিনটি।
আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন একমাত্র খুলনা জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে তিনটি। এর মধ্যে ভাল রয়েছে একটি। বাকি দুইটি নষ্ট হয়ে গেছে। অটোক্লেভ জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে চারটি, এরমধ্যে অচল তিনটি, পাইকগাছা দুইটির মধ্যে একটি অচল। বাকি অন্যান্য উপজেলার সবগুলো অচল বলে জানা গেছে।
মাইক্রোসকোপ জেনারেল হাসপাতালে দুইটি, ফুলতলায় তিনটি, দিঘলিয়ায় দুইটি, রূপসায় একটি, বটিয়াঘাটায় একটি, দাকোপে একটি, পাইকগাছায় দুইটি অচল রয়েছে।
এছাড়া তেরখাদায় একটি, ডুমুরিয়ায় তিনটি কয়রায় দুইটি ভালো রয়েছে। সাকার মেশিন উপজেলার ডুমুরিয়ায় দুইটি, ফুলতলায় দুইটি, দিঘলিয়ায় একটি, বটিয়াঘাটায় একটি, দাকোপে একটি, পাইকগাছায় তিনটি এবং কয়রায় একটি অচল রয়েছে। লেবুলাইজার ফুলতলায় দুইটি রূপসায় দুইটি, পাইকগাছায় একটি এবং কয়রায় একটি অচল রয়েছে।
রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের আছাদ মিয়া জানান, তার কোমরে আঘাত লাগায় চিকিৎসক তাকে এক্সরে করতে বলেছে। সে মোতাবেক তিনি রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানতে পারেন এখানের এক্সরে মেশিন নষ্ট।
ফুলতলা উপজেলার জামিরা গ্রামের আব্দুল্লাহ জানান, তার বার্ধক্য বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে চিকিৎসক ইসিজির পরামর্শ দেন। সে মোতাবেক তিনি ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানতে পারেন এখানের ইসিজি মেশিন নষ্ট।
শুধু আছাদ মিয়া কিম্বা আব্দুল্লাহ নয় ভুক্ত ভোগী এ জেলার অসংখ্য রোগীরা জনান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় আমাদের পরিবহন খরচসহ সময় নষ্ট করে এবং খুলনা বিভিন্ন ক্লিনিকে দুই-তিন গুণ অর্থ বেশি অর্থ দিয়ে পরীক্ষাগুলো করাতে হচ্ছে। এতে আমরা সবদিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
খুলনার সিভিল সার্জন ডাঃ ইয়াছিন আহমেদ জানান, মেশিনগুলো নষ্টের বিষয়টি ঢাকায় কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে জানানো হচ্ছে। কিন্তু কোন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র - risingbd.com

