মাগুরায় প্রায় পাঁচ বছর আগে মোবাইল ফোনে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সরকারি কার্যক্রম চালু হয়। তবে মানুষের কাছে তথ্য না পৌঁছানোয় চারটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালু হওয়া এ কার্যক্রম সাফল্যের মুখ দেখেনি। ওই সেবা কার্যক্রমে যুক্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৯ সালের মে মাস থেকে সরকার সারাদেশের মতো মাগুরা সদর, মহম্মদপুর, শ্রীপুর ও শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোবাইল ফোনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করে। জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট চারটি মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, একজন মেডিকেল কর্মকর্তার রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই ওই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জনগণকে জরুরি সেবা ও পরামর্শ দেওয়ার কথা। মোবাইল ফোনের নম্বরটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রদর্শন ও প্রচারে সরকারি নির্দেশনাও রয়েছে। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জনগণকে নম্বরটি জানাতে বলা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নম্বরটি প্রচার বা প্রদর্শনে উদ্যোগী না হওয়ায় ওই সেবা কার্যক্রম ফলপ্রসূ হয়নি। সদর হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা সাজ্জাদুল আলম বলেন, ‘ওই সেবা সম্পর্কে কেউ তাকে জানাননি।’ কলেজ পাড়া এলাকার স্কুল শিক্ষক ফিরোজ আলম বলেন, ‘আমি এই কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নই।’ মহম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য নওশের আলী বলেন, ‘ওই সেবা সম্পর্কে কোনো দিন শুনিনি। কেউ বলেওনি। আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম।’ বিনোদপুর ইউপির চেয়ারম্যান গোলাম আজম সাবু বলেন, ‘আমিও হাসপাতালের জরুরি সেবার মোবাইল নম্বরটি জানি না। তাহলে সাধারণ মানুষ নম্বরটি কীভাবে জানবে, কীভাবে সেবা নেবে।’ সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম মুকুল বলেন, ‘এটা গ্রাম এলাকা। কেউ তেমন মোবাইল ফোনে চিকিৎসাসেবা নেন না। হয়তো অনেকে মোবাইল ফোনের নম্বরটিও জানেন না।’ মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাইফুর রহমান বলেন, ‘আগে বিভিন্ন মাধ্যমে মোবাইল ফোন নম্বরটি অনেককে জানানো হয়েছে। খুব শিগগির আবারও নম্বরটি জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. সুনীল চন্দ্র রায় বলেন, ‘সচেতন মানুষ হেল্প লাইনটি ব্যবহার করেন। তার পরও বিষয়টি জনপ্রিয় করতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।’
সূত্র - risingbd.com

