রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ওষুধ ক্রয়ে সোয়া ৩ কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক পরিচালকসহ নয়জনের নামে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার সহকারী পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন (নম্বর ৫৬)। চার্জশিটে হাসপাতালের সাবেক পরিচালক, উপপরিচালক ও ঠিকাদার ছাড়াও পাঁচ ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন : হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার এম এ লতিফ, উপপরিচালক আবুল কালাম, ওষুধ সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফাইম মেডিকেল হলের মালিক মতিউর রহমান, ওষুধ কোম্পানি এসিআইয়ের প্রতিনিধি শেখ মোহাম্মাদ আলী, স্কয়ার প্রতিনিধি আনিছুর রহমান, জেসনের প্রতিনিধি শহিদুল আলম, একমির প্রতিনিধি এম এ মান্নান ও রফিকুল ইসলাম এবং রেনেটা লিমিটেডের প্রতিনিধি রবিউল হোসেন। দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক বলেন, বিধি অমান্য করে দুর্নীতির মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে ওষুধ ক্রয়ের অনুমতি দেওয়ায় পরিচালক ও উপপরিচালক এবং কোম্পানির দরের চেয়ে দ্বিগুণ দামের ভাউচার দাখিল করায় ঠিকাদার ও কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা এ মামলায় আসামি হয়েছেন। দুদকের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক জানান, রামেক হাসপাতলে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১২৫টি আইটেমের ওষুধ কেনা হয়। এর মধ্যে ১৫টি আইটেম সরবরাহ করে ফাইম মেডিকেল হল নামের একটি প্রতিষ্ঠান। দুর্নীতির মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতাকে না দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা ফাইম মেডিকেল হলের কাছ থেকে পাঁচটি কোম্পানির ১৫টি আইটেমের ওষুধ সরবরাহ নেওয়া হয়। কিন্তু সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানের ওষুধের দামের প্রার্থক্য ছিল প্রায় দ্বিগুণ। সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ওষুধ সরবরাহ নেওয়ায় ৩ কোটি ২৭ লাখ ১৮ হাজার ৭১৮ টাকা সরকারের ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও ফাইম মেডিকেল হল ফার্মেসির লাইসেন্স মতিউর রহমানের নামে থাকলেও তিনি নিজে সরাসরি ওষুধ কেনা-বেচার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। এর পরও তার মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা মূল্যের ১৫টি আইটেমের ওষুধ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেনে বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের ওষুধ কেনার এই দুর্নীতির বিষয়টি নজরে এলে প্রাথমিক তদন্ত করে ২০১২ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন উপপরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আটজনকে আসামি করা হয়। তবে মামলাটির তদন্ত শেষে এই দুর্নীতির সঙ্গে নয়জনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
সূত্র -risingbd.com

