home top banner

News

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়েদের লেখাপড়া হুমকির মুখে
18 March,14
Tagged In:  visually impaired  eye sight  blindness   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   20

মিরপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশন ইন্টিগ্রেটেড স্কুলে গত বছরও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়েরা প্রায় বিনা মূল্যে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। মাসে ওদের খরচ হতো সর্বোচ্চ এক হাজার ৩০০ টাকা। তবে বর্তমানে সেই একই প্রতিষ্ঠানের হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করতে কারও কারও ক্ষেত্রে বছরে ২৪ হাজার টাকার বেশি খরচ হবে। বেশির ভাগ অভিভাবকেরই এত বেশি টাকা খরচ করে পড়ানোর সংগতি নেই।

প্রতিষ্ঠানটিতে প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এবং এরপর মিরপুরের আইডিয়াল গার্লস ইনস্টিটিউটে এ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা ও এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মিরপুর ১০ নম্বরের এ প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়ের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা আছে। তবে বর্তমানে সেখানে আছে ৫৫ জন। হোস্টেলের বাইরে থেকেও অভিভাবকেরা মেয়েকে এ প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। সব মিলে প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থী ৮৫ জন। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বলছে, দাতাগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা মিলছে না। তাই প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখতেই এ ব্যবস্থা। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্যই মেয়েদের তাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

পাঁচজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে ভাড়া বাসায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৭৭ সালে। ১৯৮৩ সালে জার্মানির ক্রিস্টোফেল ব্লিনডেন মিশন স্কুলের জমি, ১০০ জনের থাকার জন্য হোস্টেল এবং একটি ব্রেইল প্রেসের ব্যবস্থা করেন। গত বছর পর্যন্ত হোস্টেলের এবং বাইরের মেয়েরা বিনা মূল্যে ব্রেইল বই পেয়েছে। এবার বাইরের মেয়েদের বই কিনতে বলা হয়েছে। জানা গেল, বই না করে ব্রেইল প্রেস থেকে মাসিক ম্যাগাজিন বের করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীর একজন অভিভাবক বলেন, ‘মেয়েকে হোস্টেলে আর পাঠাব কি না, তাই চিন্তা করতেছি। হোস্টেলে গেলেই তো অনেক টাকা লাগব।’

তবে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মমতা বৈরাগী বলেন, কোনো দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে সহায়তা মিলছে না। এ অবস্থায় যে অভিভাবকদের আর্থিকভাবে সামর্থ্য আছে, তাঁদের কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হচ্ছে।

একাধিক অভিভাবকই জানান, তাঁদের এ ধরনের কথা কখনোই বলা হয়নি। বরং বিভিন্ন খাতে টাকা দেওয়ার জন্য সবাইকেই তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

খরচ: প্রতিষ্ঠানের দেওয়া লিখিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ভর্তি ফি ৫০০ টাকা, সেশন ফি দুই হাজার ৫০০ টাকা, বইয়ের জন্য তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত দুই হাজার ৫০০ টাকা, চতুর্থ থেকে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত চার হাজার টাকা এবং অষ্টম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ছয় হাজার টাকা লাগবে। তবে অভিভাবকদের কাছে চাওয়া হয়েছে এর চেয়ে অনেক বেশি টাকা।

এ ছাড়া ব্যাগ, পোশাক, লেখার ফ্রেম, জুতা, কলমসহ অন্যান্য জিনিসের জন্য লাগবে দুই হাজার টাকা। মাসিক ফি তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত ৪০০ টাকা এবং দশম শ্রেণী পর্যন্ত সাড়ে ৪০০ ও ৫০০ টাকা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠান থেকে আইডিয়াল স্কুলে যাওয়ার ভ্যান ভাড়া আগে দিতে হতো ৩০০ টাকা, এখন দিতে হবে ৫০০ টাকা। এ ছাড়া হোস্টেলের সিট ভাড়া, খাবার, চিকিৎসাভাতা, দৈনিক খরচসহ নার্সারি থেকে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বছরে খরচ হবে ২২ হাজার ৭৫০ টাকা এবং দশম শ্রেণী পর্যন্ত লাগবে ২৪ হাজার ১৫০ টাকা।

জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামে কাজ করেন নাজমা আরা বেগম। তিনি ব্যাপ্টিস্ট মিশন স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৮৬ সালে স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হওয়া নাজমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে বাবা আমাকে হোস্টেলে দিয়ে যেতেন। সে জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বাবাকে যাতায়াত ভাতাও দিয়ে দেওয়া হতো। খাবার, তেল, সাবানসহ অন্যান্য খাতেও খরচ ছিল না। তারপর আস্তে আস্তে কিছু টাকা নেওয়া হলেও একবারে হুট করে কখনোই এত বেশি টাকা চাওয়া হয়নি।’

স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ক্রিস্টোফার অধিকারী বলেন, ভবিষ্যতে আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলে আবার মেয়েদের বিনা মূল্যে পড়ানো হবে।

তবে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মমতা বৈরাগী বলেন, ‘তা কীভাবে সম্ভব? একবার টাকা নেওয়া শুরু করে পরে আর তা বাতিল করা যাবে না।’

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: গাজীপুরের রেস্তোরাঁয় মরা মুরগির গ্রিল!
Previous Health News: গর্তে রেখে সুস্থতা কামনা

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')