সাজসজ্জায় আধুনিক। তার ওপর গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্র চান্দনা চৌরাস্তার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বলে সুরমা রেস্তোরাঁ অ্যান্ড সুইটমিটে খদ্দেরের ভিড় সবসময় বেশি। নানা খাবারের মধ্যে চিকেন গ্রিলের আকর্ষণে অনেকেই ছুটে যেতেন ওই রেস্তোরাঁয়। রেস্তোরাঁর মালিক কাশেম আলী ও তাঁর মেয়েজামাই নওগাঁর রানীনগর এলাকার আবু রেজা 'উন্নতমান ও সুস্বাদু' খাবারের নিশ্চয়তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু রবিবার রাতে তাঁদের 'উন্নতমান ও সুস্বাদু' খাবারের থলের বিড়াল প্রকাশ হয়ে পড়ে। মরা মুরগি দিয়ে গ্রিল তৈরি ও বিক্রির সময় পুলিশ হানা দিয়ে মরা মুরগিসহ প্রতারক শ্বশুর-জামাইকে গ্রেপ্তার করে। পরে রাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের তিন মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
গাজীপুরের ভোগড়া এলাকার হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মো. মারুফ জানান, রবিবার রাত ৮টার দিকে তিনি বন্ধুদের নিয়ে ওই রেস্তোরাঁয় খেতে যান। মুরগির গ্রিল খাওয়ার সময় পচা গন্ধ পান এবং একপর্যায়ে তিনি বমি করে ফেলেন। বিষয়টি রেস্তোরাঁর মালিককে জানালে উল্টো তাঁকেই অপদস্থ করা হয়। এ নিয়ে হট্টগোল শুরু হয় ওই হোটেলে। পরে লোকজন নিয়ে রান্নাঘরে গিয়ে দেখতে পান হোটেলকর্মীরা মরা মুরগি (জবাই করা ছাড়াই) বেছে পরিষ্কার করছে। এরই মধ্যে ঘটনা জানাজানি হলে লোকজন শ্বশুর কাশেম আলী (৫০) ও মেয়েজামাই রেজা আলীকে (২৮) মুরগিসহ ঘেরাও করে রাখে। খবর পেয়ে এসআই জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে সাতটি মরা ও পচা মুরগি জব্দসহ তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে রাত ১১টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করলে গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আরেফিন তাঁদের ওই দণ্ডাদেশ দেন।
জয়দেবপুর থানার এসআই জহিরুল ইসলাম জানান, কাশেম আলী ও রেজা আলী ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন স্থানীয় মুরগি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তাঁরা মরা মুরগি অনেক কম দামে কিনে ভোরে হোটেলে এনে রাখতেন। পরে চাহিদা অনুযারী বিক্রি করতেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এ কাজ করে আসছিলেন।
জয়দেবপুর থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান জানান, ওই দুই ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নিতে তাঁদের আত্মীয়রা থানায় এসেছিলেন। কিন্তু তাঁরা যে ধরনের কাজ করেছেন তাতে ওই শাস্তি তাঁদের প্রাপ্য ছিল। লাইসেন্স ছাড়া ওই রেস্তোরাঁয় যাতে খাবার তৈরি না হয় সে ব্যাপারে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, রেস্তোরাঁটি বন্ধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাশের কয়েকজন দোকান মালিক জানান, জনরোষ ও মালিক কারাগারে থাকায় রেস্তোরাঁটি বন্ধ রয়েছে।
সূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ

