রাসায়নিক দ্রব্য ও রং মিশিয়ে কলাইকে মুগডাল হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর বিভিন্ন মিলের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুগডালের সরবরাহ সংকট ও বাড়তি দামের কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা এই পন্থা বেছে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রামে এই ধরনের এক ডাল মিলের মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ডাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে প্রতি কেজি মুগডাল মান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। এর মধ্যে চিকন মুগডাল ১২০ টাকায়, মাঝারি মানের মুগডাল ১১৫ টাকায় এবং মোটা মুগডাল ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এই বাজারে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ টন মুগডালের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ভেজাল মুগডাল বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টন।
অসাধু ব্যবসায়ীরা কলাই ডালকে মিলে ভাঙিয়ে মুগডাল হিসেবে বাজারজাত করছে। এতে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, হলুদ রং ও তেল। ব্যবসায়ীরা এ ডালের নাম দিয়েছে ‘চায়না ডাল’।
বর্তমানে এই ডাল বিক্রি করা হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। আর প্রতি কেজি কলাই ডালের দাম হচ্ছে ৬৩ থেকে ৬৭ টাকা। ফলে ভেজাল ডাল বিক্রি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছ থেকে কেজিপ্রতি হাতিয়ে নিচ্ছেন ৩৭ থেকে ৪৭ টাকা। এভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার প্রতারণার শিকার হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রামের চাক্তাই ও রাজাখালী এলাকার চার-পাঁচটি ডাল মিল কলাই ডালকে ভেঙে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ টন ভেজাল মুগডাল বাজারে সরবরাহ করছে। তবে রাজশাহীর বানেশ্বর এলাকার কয়েকটি মিল দীর্ঘদিন ধরেই এই কাজটি করে আসছে বলে অভিযোগ করেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা।
কলাই ডালে ভেজাল দিয়ে মুগডাল হিসেবে বাজারজাত করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম ডাল মিল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আহমদ রশিদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের রাজাখালীর একটি মিলে এই ধরনের ভেজাল মেশানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। গত শনিবার সমিতির বৈঠকে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য এক সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন বলেন, ‘ভেজাল মুগডাল বাজারজাত করার অভিযোগে সৌরভ ডাল মিলের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের আরও কয়েকটি ডাল মিলের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে ভেজাল ডাল সরবরাহ করার অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন সৌরভ ডাল মিলের কর্মকর্তা লিটন।
সূত্র - প্রথম আলো

