ঠাকুরগাঁওয়ে একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক চিকিৎসক না হয়েও ওই প্রসূতির চিকিৎসা করায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার জেলা শহরের নিউ স্কয়ার হাসপাতাল নামের ওই ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন গতকাল মঙ্গলবার ক্লিনিকটি সিলগালা করে দিয়েছে। ওই প্রসূতির স্বামী ক্লিনিকের ব্যবস্থাপকসহ চারজনের বিরুদ্ধে গতকাল হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ওই ক্লিনিকের সহকারী ব্যবস্থাপকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রসূতির নাম জবা রানী (৩৫)। তিনি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মদনসাকো গ্রামের কৃষক মদন চন্দ্র রায়ের স্ত্রী।
মদন চন্দ্র অভিযোগ করেন, প্রসবব্যথা উঠলে গত সোমবার বেলা দেড়টার দিকে তিনি জবাকে নিউ স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করেন। ক্লিনিকের মালিক ও ব্যবস্থাপক মোহামঞ্চদ শাহিন বিকেল পাঁচটার দিকে জবাকে ক্লিনিকের অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে মৃত সন্তান প্রসব করান। এ সময় তাঁর সঙ্গে দুজন সেবিকা ছিলেন। প্রসবের পর প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হলে শাহিন তাঁকে একটি ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তিনি মারা যান।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ খান ঘটনাস্থলে গিয়ে জবার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। এরপর শাহিন ও ক্লিনিকের অন্যান্য লোকজন পালিয়ে যান।
এ ব্যাপারে শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গতকাল বেলা ১১টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াশিমুল বারী ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেন। পুলিশ সে সময় ক্লিনিকের সহকারী ব্যবস্থাপক ফেরদৌস আলম এবং সেবিকা শিলা রানী সরকার ও শাহনাজ পারভীনকে আটক করে।
শিলা রানী সরকার ও শাহনাজ পারভীন জানান, ঘটনার সময়তাঁরা ক্লিনিকে ছিলেন না।
সদর থানার ওসি ফিরোজ খান বলেন, ‘চিকিৎসক না হয়েও দুজন অদক্ষ সেবিকা নিয়ে প্রসব করাতে গিয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাটি আমরা হত্যাকাণ্ড হিসবে বিবেচনা করছি।’ তিনি আরও জানান, জবার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সিভিল সার্জন আফজাল হোসেন তরফদার জানান, ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো

