স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে ‘অথর্ব’ লোকজন তাঁর দরকার নেই। যাঁরা কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। আজ রোববার বিকেলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মো. নাসিম।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে খুব আন্তরিক। আন্তরিক হয়ে যিনি কাজ করেন, তাঁর কাজে ভুলত্রুটি হতে পারে। যাঁরা জ্ঞানপাপী, তাঁদের কাজে কখনো ভুল হয় না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভালুকার মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে অভিযোগ করেছেন, তাঁদের ওখানে চিকিৎসক থাকেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর দুই চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সাময়িক বরখাস্ত নয়। এদের স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা উচিত। সাময়িক বরখাস্ত করলে তদবির করে। যাঁরা কাজে ফাঁকি দিচ্ছেন, তাঁরা নিজেরাই ফাঁকিতে পড়ছেন। ভালো কাজ করলে আমাকে পাশে পাবেন। খারাপ কাজ করলে পাবেন না। সমিতির নেতা, কর্মকর্তা কেউ বললেই শুনব না।’
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জনবল সংকটের প্রসঙ্গ তুললে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শিগগিরই জনবল নিয়োগ করা হবে। দেশে বহু মানুষ বেকার। প্রয়োজনে জনবল নিয়োগ করা যেতে পারে। তবে তিনি ‘অথর্ব’ লোক চান না।
মো. নাসিম স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি, এগুলোকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এমন অনেক মাতৃমঙ্গলকেন্দ্র আছে যেখানে সন্তান প্রসব করতে এসে মায়েরা অন্য রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।
বক্তৃতার শুরুতে নাসিম বলেন ‘সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ পরিচয়টাই তাঁকে তৃপ্তি দেয়। তবে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সে দায়িত্ব নিয়ে তিনি জনগণের একেবারে কাছে পৌঁছতে পারবেন।
বরখাস্ত হলেন যাঁরা
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে ময়মনসিংহের ভালুকার ধলিয়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইলিয়াস বিন আকবর ও উথুরা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাসরিন সালামকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো

