কোথাও সার্বক্ষণিক চিকিৎসক নেই। আয়া সাদা অ্যাপ্রোন পরে নার্স সেজেছেন। রোগীর শরীরে স্যালাইন গরম করে পুশ করা হচ্ছে। এ দৃশ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি বেসরকারি ক্লিনিকের। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সিভিল সার্জন মোযাহারুল হক সরেজমিনে পরিদর্শন করে দুটি ক্লিনিক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
ওই ক্লিনিকগুলো হচ্ছে শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাটের ইসলামী হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, নূরজাহান ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতাল এবং রানীহাটির জনসেবা ক্লিনিক ও আল হেরা ক্লিনিক।
সিভিল সার্জন বলেন, নূরজাহান ডায়াগনস্টিক, আল হেরা ক্লিনিক ও জেনারেল হাসপাতালে অনুমোদনের চেয়ে বেশি শয্যা রয়েছে। আল হেরা ক্লিনিকের প্যাথলজি ল্যাবরেটরিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের রিএজেন্ট পাওয়া যায়। এখানে স্যালাইন গরম করে রোগীর শরীরে পুশ করা হয়। এখানকার পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। জনসেবা ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, একজন আয়া সাদা অ্যাপ্রোন পরে নার্স সেজে বসে আছেন। ক্লিনিকের মালিক গোলাম ফারুকের স্ত্রী অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর কোনো ডিগ্রি নেই। ক্লিনিকটি আবার গোয়ালঘরের পাশে অবস্থিত। অস্ত্রোপচারকক্ষের পলেস্তারা খসে পড়েছে। এ কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই। মরিচা ধরা একটি টেবিলে রোগীর অস্ত্রোপচার করা হয়। কক্ষসংলগ্ন শৌচাগারটিও অপরিচ্ছন্ন। এ ক্লিনিক ও নূরজাহান ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রথম আলোর অনুসন্ধানেও ক্লিনিকগুলোর অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম ধরা পড়ে। সিভিল সার্জনের নির্দেশ উপেক্ষা করে জনসেবা ক্লিনিক খোলা রাখা হয়েছে। ক্লিনিকের মালিক গোলাম ফারুক বলেন, ‘সরকারি নীতিমালা মেনে কেউই ক্লিনিক চালাতে পারবে না। আশপাশের কোনো ক্লিনিকেই তা মানা হয় না। এভাবেই চলতে থাকবে এসব ক্লিনিক। কেননা, সরষের মধ্যেই আছে ভূত।’
ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও ডিপ্লোমা নার্স না থাকার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘যখন যাকে (চিকিৎসক) সুবিধা, তখন তাকে ডাকি।’
আল হেরা ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও ডিপ্লোমা নার্স না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, গরম স্যালাইন পুশ করতে এখানকার খণ্ডকালীন চিকিৎসক ইসরাফিল পরামর্শ দিয়েছেন। ইসরাফিল বলেন, ‘রোগীর খিঁচুনি এড়াতে স্যালাইন কুসুম গরম করে পুশ করা হয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমরা জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের এ পদ্ধতি অনুসরণ করতে দেখেছি।’
গত রোববার সিভিল সার্জন বলেন, নিয়ম না মেনে ক্লিনিক পরিচালনার জন্য ওই পাঁচ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো

