সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় জ্যৈষ্ঠের রসাল ফল আম পাকাতে কার্বাইড ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসনের চোখের সামনেই এই রাসায়নিক ব্যবহার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকার অনেকেই বলেছেন, তালা উপজেলায় আম উৎপাদনে বাগানমালিকরা ব্যাপক সফলতা অর্জন করতে চলেছেন। এবার আমের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু শতাধিক ব্যবসায়ী আম পাকানোর জন্য প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেছেন। এলাকার কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক যুবলীগ নেতাকে ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মোট ৫ লাখ টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করে ব্যবসায়ীরা কার্বাইড প্রকাশ্যেই ব্যবহার করছেন। উপজেলার সুজন শাহ, কলিয়া, ইসলামকাটি, খলিষখালী ও অন্যান্য এলাকা ঘুরে জানা যায়, মৌসুমের আগেই আম বাজারজাত করার জন্য ব্যবসায়ীরা তৎপর। আম পাকাতে তারা ব্যবহার করছেন কার্বাইড। কালিয়া গ্রামে ব্যবসায়ীরা কার্বাইড স্প্রে করে আম ঝুড়ি বেঁধে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীরা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে “ম্যানেজ” করার জন্য স্থানীয় একজন ব্যক্তির মাধ্যমে টাকা দিয়েছি। তাহলে আপনারা কেন এসেছেন?’ স্থানীয় ওই ব্যক্তিটির বাড়ি গিয়ে জানা যায়, কার্বাইড দেওয়া কয়েক টন আম চট্টগ্রামে পাঠানোর জন্য ট্রাকে তোলা হচ্ছে। কলিয়া ও খলিষখালী এলাকায় বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর বাড়ি গিয়ে জানা যায়, পাকানোর জন্য কার্বাইড দিয়ে রাখা হয়েছে আম। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে সঙ্গে নিয়ে এ অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’ তালা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন এ উপজেলায় চাকরি করার কারণে দায়িত্ব পালনে যেন অসহায় হয়ে পড়েছি।’ সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন জেড আতিক রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন।’ এলাকার সচেতন লোকজন বলেছেন, আমের মৌসুম এসে গেছে। এখনো পর্যন্ত কোনো ভ্রাম্যমাণ আদালত তো দূরের কথা, অসাধু ব্যবসায়ীদের অপকর্ম বন্ধের জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সূত্র -রাইজিংবিডি.কম

