হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকের নতুন ভবন উদ্বোধনের আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে৷ এ নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ ও ভীতি৷
স্থানীয় জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জ ও সিলেট জেলার সংরক্ষিত আসনের সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া ভবনটি পরিদর্শন করেন। তিনি নতুন ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, পুরোনো ভবনের লেবার রুমে পাখা, বৈদ্যুতিক বাতির অপ্রতুলতা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম বদরুল ইসলামের কাছে জানতে চান, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করার পর নতুন ভবনে ফাটল ধরার কারণ কী? জবাবে প্রকৌশলী বদরুল জানান, এখন পর্যন্ত ভবনের অবকাঠামোগত কোনো ত্রুটি দেখা যায়নি। ফলে ভবন ধসে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। দেয়ালের কিছু কিছু স্থানে ফাটল ও যেসব স্থান দিয়ে বৃষ্টির পানি ভেতরে ঢুকছে, সেগুলো আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সংস্কার করা হবে।
পরিদর্শনকালে সাংসদের সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম বদরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া প্রমুখ ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এম সুলেয়মান খান জানান, হাসপাতালে নর্দমাব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ময়লা-আবর্জনা উপচে পড়ছে। ছাদ চুয়ে পানি ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ করা যাচ্ছে না। শৌচাগারগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। বিদ্যুতের লাইনগুলো নষ্ট হয়ে যাওযায় ঘন ঘন বাল্ব বদলাতে হচ্ছে। প্রবেশমুখে অ্যাপ্রোচ রোড না থাকায় মাটি ও কাদা নিয়ে ডাক্তার ও রোগীরা হাসপাতালে প্রবেশ করা ছাড়াও রয়েছে অসংখ্য সমস্যা।
২০১০ সালে বাহুবলের ৩১ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এতে ব্যয় হয় ছয় কোটি ২০ লাখ টাকা। ভবনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন না হওয়ায় পুরোনো ভবনেই চিকিৎসা চলছে৷
সূত্র - প্রথম আলো

