সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসকদের হাতে নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা মারধরের শিকার হয়েছেন। এর প্রতিবাদে ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা গতকাল সোমবার চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন। তবে হাসপাতালের নিজস্ব সেবক-সেবিকারা দায়িত্ব পালন করায় সেবা কার্যক্রমে তেমন সমস্যা হয়নি৷
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তোফায়েল হোসেন নামের একজন কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসক একই ওয়ার্ডে শিক্ষানবিশ সেবক হিসেবে কর্তব্যরত নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী প্রলয় কুমার ব্যাপারীকে তলব করেন। প্রলয় চিকিৎসকের ডাকে যেতে দেরি হওয়ায় দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে প্রলয়কে কিল-ঘুষি দিয়ে ওয়ার্ড থেকে চলে যেতে বলেন তোফায়েল। এরপর তোফায়েলের পক্ষ নিয়ে আরও কয়েকজন শিক্ষানবিশ সেবক প্রলয়কে মারধর করেন। খবর পেয়ে অন্য ওয়ার্ডে কর্তব্যরত প্রলয়ের সহপাঠীরা ছুটে গেলে তাঁরাও মারধরের শিকার হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। রাত তিনটার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠক করে দোষী ব্যক্তিদের বিচারের অশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সূত্র জানায়, এ ঘটনা সকালে জানাজানি হলে সিলেট নার্সিং ইনস্টিটিউটের শতাধিক শিক্ষার্থী ক্লাস-পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা বর্জন করে সকাল নয়টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালের প্রধান ফটকে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন। এসময় ওই ফটক দিয়ে কোনো রোগী ভেতরে ঢুকতে পারেননি৷ এতে দুর্ভোগে পড়েন অনেকে৷
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক তন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো

