আদালতের নির্দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে নারী চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছে। তবে ধর্ষণের শিকার নারীকে এখনো করিডরেরই একটি কক্ষে শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। এ জন্য পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা করেনি কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষার পর্যাপ্ত আয়োজনও করা হয়নি।
১৩ এপ্রিল কাফরুল থানার পুলিশ তাজ নাহার বেগম ধর্ষণের শিকার ১৭ বছরের এক তরুণীকে পরীক্ষা করাতে এনেছিলেন। চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় মেয়েটিকে ঢাকা মেডিকেলের মধ্যে থাকা মহিলা অধিদপ্তরের আওতাধীন ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওএসসিসি) পাঠানো হয়। তাজ নাহার বেগম ও ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক শর্মিলী পাল মেয়েটিকে সেখানে নিয়ে যান। শর্মিলী পাল প্রথম আলোকে জানান, ফরেনসিক বিভাগে প্রাথমিক পরীক্ষা করার ব্যবস্থা আছে, তবে প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা সম্ভব হয় না।
গত বছরের ১৬ এপ্রিল ‘ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগ: নারীর জন্য এ কেমন ব্যবস্থা’ শিরোনামে প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। তাতে বলা হয়, ফরেনসিক বিভাগে ধর্ষণের শিকার নারীদের ডাক্তারি পরীক্ষা করেন পুরুষ চিকিৎসক। ধর্ষণের প্রমাণপত্র নিতে লজ্জা ও অবমাননার মুখোমুখি হতে হয় ধর্ষণের শিকার নারীকে।
ওই দিন হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ও বিভাগের প্রধানকে হাইকোর্টে তলব করে রুল দেন। এর পরই ফরেনসিক বিভাগে দুজন নারী চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজে ফরেনসিক বিভাগে নারী চিকিৎসক, নার্স ও এমএলএসএস নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ঢাকা মেডিকেল সূত্রে জানা গেছে, ফরেনসিক বিভাগে পাঁচ নারী চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছে। সঙ্গে দুজন নারী এমএলএসএস দেওয়া হয়েছে। তবে নার্স দেওয়া হয়নি। আগের মতো খোলামেলা পরিবেশেই পরীক্ষা করা হয়।
১৩ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টায় ধর্ষণের শিকার আরও তিন কিশোরীকে ঢাকা মেডিকেলে শারীরিক পরীক্ষার জন্য আনা হয়েছিল। আলাদা বসার ব্যবস্থা না থাকায় বারান্দায় পুরুষ পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে দেখা যায়। শর্মিলী পাল দিনের কাজ শেষ করে বেলা সাড়ে তিনটার পর তাঁদের পরীক্ষা করেন।
কলেজ সূত্র জানায়, প্রতিদিন ধর্ষণের শিকার তিন-চারজন কিশোরী বা নারী শারীরিক পরীক্ষার জন্য এবং দু-তিনজন বয়স নির্ধারণের জন্য এখানে আসেন। সবাইকে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইসমাইল খান প্রথম আলোকে বলেন, এক বছরে ফরেনসিক বিভাগের উন্নয়ন করা হয়েছে, আরও করা হবে।
বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. হাবিবুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিভাগে পর্যাপ্ত কক্ষ নেই। সহযোগী অধ্যাপকের নিজস্ব কক্ষ নেই। বিভাগ নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হলে সমস্যা থাকবে না।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম প্রথম আলোকে বলেন, চিকিৎসক নিয়োগ বা পদায়ন করাই যথেষ্ট নয়। হাইকোর্টের রুল জারির এক বছর পরও পরিবেশের উন্নতি না হওয়া দুঃখজনক।
সূত্র - প্রথম আলো

