মস্তিষ্কের তরঙ্গ এবং হূদ্যন্ত্রের কর্মকাণ্ড পরিমাপের কলকবজা কি খেলাধুলা বা কাজকর্মের দক্ষতা বাড়াতে পারে? এমনকি চিকিৎসার ক্ষেত্রও বদলে দিতে পারে এ ধরনের ছোট যন্ত্রপাতি?
তবে প্রযুক্তিবিষয়ক অনেক প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে বাজি ধরছে। তারা বলছে, পরিধানযোগ্য সংবেদ যন্ত্র বা সেন্সরগুলো ভোক্তাদের জন্য একটি ‘ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়’ হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি স্বাস্থ্য ও সুখ সম্পর্কে আত্ম-অনুভূতির জায়গা দখল করে নিতে পারে। জন্ম নিতে পারে প্রযুক্তিনির্ভর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস শোতে (সিইএস) অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞরা এমনটাই জানিয়েছেন।
নতুন এই সেন্সরগুলো ভোক্তাদের উপকারী তথ্য প্রদান করে কি না, সেটা তর্কসাপেক্ষ ব্যাপার। কেননা, হূদ্যন্ত্রের স্পন্দন পরিমাপকারী এবং শারীরিক সক্ষমতা শনাক্তকারী যন্ত্র বাজারে অনেক রয়েছে। তবে নাড়ির স্পন্দন মাপার পরিবর্তে যদি হূদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কর্মকাণ্ড পরিমাপের মতো সংবেদ যন্ত্র বাজারে আসে? ওহিও স্টেট মেডিকেল সেন্টারের কার্ডিওভাসকুলার মেডিসিন বিভাগের রাগাভেন্দ্র বালিগা বলছেন, এ ধরনের যন্ত্রপাতি আসলেই কার্যকরী হবে। তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে যাঁরা শরীরিক বিষয়ে দৈনন্দিন রেকর্ড রাখতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটা কাজে আসবে।
সিইএস প্যানেলের সদস্য এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠান কন্টিনুয়া হেলথ অ্যালায়েন্স গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক চাক পার্কারের মতে, মানবদেহে প্রতিস্থাপন করতে হয় না, কেবল স্মার্টফোনে সংযুক্ত এই যন্ত্র চারটি ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য। প্রথমটি হচ্ছে, চিকিৎসাক্ষেত্র। বলা হচ্ছে, এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীরা বাড়িতেই থাকতে পারবেন। আর চিকিৎসকেরা তাঁদের শারীরিক অবস্থার ওপরে ‘ডিজিটাল’ চোখ রাখবেন।
অবশ্য, এ ধরনের যন্ত্রকে যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেল ডিভাইস হিসেবে ব্যবহার করতে হলে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) অনুমোদনের দরকার হবে। তবে অন্যান্য কাজে তা এড়ানো যাবে। বিশেষ করে যেসব সন্তান তাঁদের বয়োবৃদ্ধ মা-বাবার বা যেসব মা-বাবা তাঁদের ছোট ছেলেমেয়েদের শারীরিক অবস্থার ওপরে অনেক দূর থেকেই নজর রাখতে চান, তাঁদের জন্য এই প্রযুক্তি সহায়ক হবে বলে মনে করছেন পার্কার।
একই ধরনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গবেষকেরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজ করতে সক্ষম স্মার্টহোম প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছেন। এর মাধ্যমে বয়োবৃদ্ধ লোকজনকে সময়মতো ওষুধ খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হবে।
নতুন সেন্সর প্রযুক্তির আরেকটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হচ্ছে, ভোক্তার স্বাস্থ্য। শারীরিক উপযুক্ততা নির্ণয় এবং স্থূলতা কমানোর জন্য অনেক বিকল্পই বিদ্যমান রয়েছে। যেমন, হূদ্যন্ত্রের স্পন্দন নির্ণায়ক যন্ত্র। তবে ওমেগাওয়েভ পারসোনালের মতো নতুন ধরনের শনাক্তকারী যন্ত্র অত্যাধুনিক পরিমাপ পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে। ওমেগাওয়েভের সেন্সর হূদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফি ব্যবহার করে থাকে।
এ ছাড়া ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া দলগুলো এরই মধ্যে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তারা স্মার্টফোনের অ্যাপস ব্যবহার করে তাদের দেহ শারীরিক কর্মকাণ্ডের জন্য কতটা প্রস্তুত তা নিরূপণ করে থাকে। চতুর্থ ক্ষেত্রটি হচ্ছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। বিশেষজ্ঞরা নতুন এ প্রযুক্তি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগানোর দিকে ঝুঁকছেন এটি ছোট আকৃতির হওয়া এবং সহজেই ব্যবহার করা যায় বলে। হারিকেন, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগে এটা সহায়ক হতে পারে। লাইভসায়েন্স।
সূত্র - প্রথম আলো

