ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের এক ব্যবস্থাপক চিকিত্সক না হয়েও বাচ্চা প্রসব করাতে গিয়ে প্রসূতিকে মেরে ফেলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার প্রসূতির মৃত্যুর পর আজ মঙ্গলবার ক্লিনিকটি সিলগালা করে দিয়েছে প্রশাসন। এ ঘটনায় ক্লিনিকের তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যবস্থাপক আত্মগোপন করেছেন।
খবর নিয়ে জানা গেছে, শহরের নিউ স্কয়ার ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহিন চিকিত্সক নন। ক্লিনিকটির মালিকানায় অংশ রয়েছে তাঁর।
মারা যাওয়া প্রসূতি জবা রানীর স্বামী মদন চন্দ্র রায় বলেন, প্রসব-ব্যথা ওঠার পর গতকাল বেলা দেড়টার দিকে তিনি স্ত্রীকে নিউ স্কয়ার ক্লিনিকে ভর্তি করেন। বিকেল পাঁচটার দিকে ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাহিন জবাকে ক্লিনিকের অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে যান। চিকিত্সক ও দক্ষ সেবিকা ছাড়াই মৃত সন্তান প্রসব করান তিনি। বাচ্চা প্রসবের পর জবার রক্তক্ষরণ শুরু হলে শাহিন তাঁর দেহে একটি ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার পর জবার অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তিনি মারা যান।
মদন চন্দ্র রায় জানান, জবার মৃত্যুর পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর লোকজনকে দ্রুত ক্লিনিক ত্যাগ করতে বলেন। কিন্তু তাঁরা ক্লিনিক ছেড়ে যেতে রাজি হননি। ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর গণমাধ্যমের স্থানীয় কর্মীরা বিষয়টি পুলিশ সুপার ফয়সল মাহমুদকে জানান। পুলিশ সুপার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ খানকে তাত্ক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার তদন্ত করতে নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে ওসি ক্লিনিকে গিয়ে রোগীর স্বজন ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পর রাত ১২টার দিকে মৃতদেহ থানায় নিয়ে যান। অবস্থা বেগতিক দেখে ক্লিনিক থেকে পালিয়ে যান ব্যবস্থাপক শাহিন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্লিনিক সিলগালা করে দেওয়া হয়। সিলগালা করার সময় ক্লিনিকের সহকারী ব্যবস্থাপক ফেরদৌস আলম এবং শিলা রানী সরকার ও শাহনাজ পারভীন নামের দুই সেবিকাকে আটক করা হয়।
মদন চন্দ্র রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিকিত্সক না হয়েও ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক আমার স্ত্রীর প্রসব করাতে গিয়ে তাঁকে মেরে ফেলেছে।’
ওসি ফিরোজ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিকিত্সক না হয়েও দুই জন অদক্ষ সেবিকা নিয়ে প্রসব করাতে গিয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাটি আমরা হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছি। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের স্বামী মদন চন্দ্র রায় বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।’
সূত্র - প্রথম আলো

