শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে দীর্ঘ ছয়মাস ধরে জলাংতক রোগের প্রতিষেধক নেই। ফলে কুকুর, শিয়াল, বিড়ালসহ বিভিন্ন পশুর কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। জীবন রক্ষার্থে এসব রোগিকে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে প্রতিষেধক কিনতে হচ্ছে।
জেলা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত বছরের আগস্ট মাসে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে দুই হাজার জলাতংক প্রতিষেধক সরবরাহ করা হয়েছিল। কিন্তু অল্প দিনেই সেসব প্রতিষেধক শেষ হয়ে যায়। এরপর আর কোনো প্রতিষেধক হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়নি। ফলে ফলে কুকুর, শিয়াল, বিড়ালসহ বিভিন্ন পশুর কামড়ে আক্রান্ত রোগী বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন হাসপাতালে গড়ে অর্ধ-শত রোগি জলাতংক রোগের প্রতিষেধক নিতে আসেন। কিন্তু হাসপাতালে প্রতিষেধকটির সরবরাহ না থাকায় তাদের বাইরে থেকে কিনে এনে এটি ব্যবহার করতে হয়।
চিকিৎসকরা জানান, কুকুর, বিড়াল বা শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাধারণত চারটি এন্টি র্যারবিস ভ্যাকসিন বা জলাতংক প্রতিষেধক দিতে হয়। ইঞ্জেকশন আকারে প্রতিটি প্রতিষেধকের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫শত টাকা। এর ফলে একজন রোগীকে দুই হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। তবে হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে আসা চারজন রোগী একত্রিত হয়ে একটি ভ্যাকসিন কিনতে দিতে পারেন। এতে তাদের খরচ অনেক কম পড়বে বলে তিনি জানান।
হাসপাতালে প্রতিষেধক নিতে আসা কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত মোশারফ হোসেন বলেন, তিনি গরিব। প্রতিষেধক কেনার মতো সামর্থ্য নেই। তবু জীবন বাঁচানোর জন্য অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার করে প্রতিষেধক কেনার জন্য হাসপাতালে এসেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, মূলত. সরকারের পক্ষ থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে জলাতংক প্রতিষেধক সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সরবরাহ থাকলে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিও বিনামূল্যে জলাতংক প্রতিষেধক নিয়ে থাকেন। ফলে হাসপাতালে সরবরাহকৃত প্রতিষেধক দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
শেরপুরের সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. নারায়ণ চন্দ্র দে বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দরিদ্র ও অসহায় রোগিদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে অনতিবিলম্বে জলাতংক প্রতিষেধক সরবরাহ করার জন্য তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
সূত্র - natunbarta.com

