home top banner

খবর

স্যালাইন মিশিয়ে এক ব্যাগ রক্তকে করা হয় দুই ব্যাগ
২৩ মার্চ, ১৪
Tagged In:  saline  donate blood  blood bank  public health   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   25

ছলে-কৌশলে আবারও অবৈধ ব্লাডব্যাংকের কারবার শুরু হয়েছে। পুরনো অভিযুক্তরাই নতুন পরিচয়ে এ ব্যবসা চালু করে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। অভিযুক্তদের তথ্য অনুযায়ী, মাদকসেবীরা মাত্র এক থেকে দেড়শ’ টাকার বিনিময়ে তাদের কাছে নিজের রক্ত বিক্রি করে। সেই রক্ত তারা বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে বিক্রি করে এক থেকে দেড় হাজার টাকায়। এছাড়াও এক ব্যাগ রক্তে স্যালাইন মিশিয়ে দুই ব্যাগ রক্ত বানানো হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর বকশিবাজারে মাদকাসক্ত ও পেশাদার রক্তদাতার রক্তের অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসার অভিযোগে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা অবৈধ ব্লাডব্যাংকটির মালিকসহ তিনজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিও সিলগালা করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের খুব কাছাকাছি আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন ১ নম্বর বকশিবাজারে (২য় তলা) ঢাকা ব্লাডব্যাংক সেন্টারে শনিবার অভিযান চালান র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে মাদকাসক্ত এবং পেশাদার রক্তদাতাদের রক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া রিপোর্টে ডাক্তারের স্বাক্ষর জাল করে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে রক্ত বেচাকেনার অভিযোগে তিনজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডিতরা হলেন- ব্লাডব্যাংকের মালিক মোঃ খোকন, টেকনিশিয়ান রবিউল ইসলাম ও পিয়ন রাসেল হোসেন। এর মধ্যে খোকনকে দুই বছর ও বাকি দুজনের এক বছর করে সাজা হয়। এরা দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা করে আসছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা যুগান্তরকে বলেন, অভিযানের সময় ওরা পেশাদার রক্তদাতা ও মাদকসেবীর কাছ থেকে রক্ত গ্রহণ করছিল। তাছাড়া পরীক্ষা ছাড়াই ডাক্তারের জাল রিপোর্ট তৈরি করে রক্ত বিক্রয়ের সময় অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরা হয়। তিনি বলেন, রক্তের পাঁচটি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক (এইডস, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, সিফিলিস এবং ম্যালেরিয়া) হলেও শুধু গ্র“প পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু রক্ত পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে ডাক্তারের স্বাক্ষর জাল করার ফলে এ রক্ত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, সার্বক্ষণিক ডাক্তার ও দক্ষ টেকনিশিয়ান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামাদি ছাড়া সংকীর্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্লাডব্যাংকের কাজ চালানো গর্হিত অপরাধ। রক্তদাতাদের পরিচয় ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিস্তারিত বিবরণীর রেকর্ড রাখা বাধ্যতামূলক হলেও তা নেই। মাদকসেবীদের রক্ত হওয়ায় তাতে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ খুব কম থাকে এবং তাদের অনিরীক্ষিত রক্তের মাধ্যমে রক্তবাহিত রোগ সুস্থ মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের তথ্য অনুযায়ী, আগেও একই অপরাধে ইতিমধ্যে ২৭টি অভিযানে ৫১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়। সিলগালা করা হয় ব্লাডব্যাংক। অভিযানের সময় দেখা যায়, সেলিম মিয়া নামের এক ব্যক্তি এই ব্লাডব্যাংক থেকে রক্ত কিনে নামছিলেন। পিজি হাসপাতালে ভর্তি থাকা তার এক আত্মীয়ের জন্য তিনি এ রক্ত কিনেছেন। সঙ্গে রক্ত পরীক্ষার একটি রিপোর্ট ছিল। রিপোর্টে ডাক্তারের স্বাক্ষর ছিল। অথচ ওই ব্লাডব্যাংকে ডাক্তার বা নার্স পাওয়া যায়নি। ব্লাডব্যাংকের মালিক খোকন স্বীকার করেন, তিনি রবিউলকে দিয়ে ডাক্তারের স্বাক্ষর করিয়েছেন। টেকনিশিয়ান রবিউল স্বীকার করেন, পরীক্ষা ছাড়াই রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করেছেন এবং মালিকের নির্দেশে ডাক্তারের স্বাক্ষর জাল করেছেন। যে রক্ত বিক্রি করেছেন সেটির রক্তদাতার (মাদকসেবীর) সঠিক পরিচয় জানা থাকে না বলে ইচ্ছামতো নাম দিয়ে দেয়। তিনি স্বীকার করেন যে, এক ব্যাগ রক্তে স্যালাইন মিশিয়ে দুই ব্যাগ রক্ত তৈরি করা হয়। অভিযানের সময় আরও একজন ব্যক্তি রক্ত কিনতে এসেছিলেন, পিয়ন রাসেল হোসেন রক্তের ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করছিল।

ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা বলেন, সারা দেশে ৭৭টি বেসরকারি ব্লাডব্যাংকের অনুমোদন রয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত কতিপয় অসাধু ব্লাডব্যাংকের অপতৎপরতা স্বাস্থ্য খাতকে অনিরাপদ করে তুলছে। রক্তদানে সাধারণ মানুষের ভীতি এবং অবহেলার কারণে পেশাদার রক্তদাতাদের ওপর নির্ভর করে এসব অসাধু ব্লাডব্যাংক ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা করছে। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অমানবিক রক্ত ব্যবসার বিরুদ্ধে সারা দেশে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযানে র‌্যাব-২ এর উপপরিচালক মেজর হিমাদ্রী শিখর রায় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। 

সূত্র - দৈনিক যুগান্তর

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: ডায়াবেটিস অ্যান্ড এন্ডোক্রাইন সোসাইটির ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স
Previous Health News: ৩ হাজার রোগীর বিনামূল্য চিকিৎসা বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')