টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের ফ্রি চিকিত্সার ব্যবস্থা করেছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা। ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাত্ক্ষণিকভাবে চিকিত্সা দেওয়ার জন্য ইজতেমা ময়দানের উত্তর পাশে এসব ফ্রি চিকিত্সাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণকক্ষ সূত্রে জানা যায়, ইজতেমা মাঠের উত্তর পাশে স্টেশন রোড-কামারপাড়া সড়কের পাশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মুসল্লিদের জন্য ফ্রি চিকিত্সাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এখানে মোট ৪০টি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের চিকিত্সা সেবা দিচ্ছে। পাশাপাশি টঙ্গী সরকারি হাসপাতালেও রয়েছে বিশেষ মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা। রয়েছে বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সও।
আজ দুপুরে চিকিত্সাকেন্দ্রগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, এখানে রয়েছে মুসল্লিদের সারি। চিকিত্সকেরা ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের চিকিত্সা-সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
সেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিত্সাকেন্দ্রের সামনে চিকিত্সা নিতে এসেছেন মো. হারুন সিকদার। তিনি জানান, তিনি বরিশাল থেকে এসেছেন। ঠান্ডার সমস্যার কারণে তিনি চিকিত্সা নিতে এসেছেন। পাশেই কথা হয় সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ষাটোর্ধ্ব আবদুস সাত্তারের সঙ্গে। তিনি জানান, আজ ভোরে এখানে এসেছেন তিনি। হঠাত্ করে পেটের পীড়া দেখা দেওয়ায় তিনি এখানে চিকিত্সা নিতে এসেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিত্সাকেন্দ্রে দায়িত্বরত চিকিত্সক মো. কামরুল ইসলাম জানান, গতকাল থেকে তাঁদের চিকিত্সা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত টানা এই কার্যক্রম চলবে।
কামরুল ইসলাম আরও জানান, এখানে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। তবে কারও অবস্থা গুরুতর হলে তাঁকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। এজন্য ২০টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের চিকিত্সা-সেবা দেওয়া হচ্ছে।
বিএমএর চিকিত্সাকেন্দ্রে দায়িত্বরত চিকিত্সক ইফতেখার হোসেন সিরাজী জানান, আজ সকাল থেকে বিএমএর পক্ষ থেকে মুসল্লিদের ফ্রি চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। বেশির ভাগ লোক শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি, গা-ব্যথা, মাথাব্যথা ও পেটের পীড়াজনিত সমস্যা নিয়ে আসছেন বলে জানান তিনি। ধুলা, বালি, ঠান্ডা ও খাবারের সমস্যার কারণে মুসল্লিদের এসব সমস্যা হচ্ছে মনে করেন তিনি।
টঙ্গী মডেল থানার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেন জানান, ইজতেমা এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
আজ জুমার নামাজের সময় মুসল্লিদের কিছুটা চাপ বেশি ছিল। ফলে মহাসড়ক ও আশপাশের সড়কে কিছুটা যানজট দেখা যায়। তবে সন্ধ্যা নাগাদ আশপাশের সড়কগুলো স্বাভাবিক হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিন ছিনতাইকারীকে সাজা
ইজতেমা এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিন যুবককে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাঁরা হলেন বদি আলম, মো. রাসেল ও মো. মারুফ। আজ দুপুরে তাঁদের প্রত্যেককে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন নির্বাহী হাকিম মো. সাইফুল ইসলাম মজুমদার। সাইফুল ইসলাম মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সড়কে ধুলোবালি
বিশ্ব ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের সুবিধার্থে ইজতেমা মাঠের আশপাশের সড়কগুলোতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পানি ছিটানোর কথা থাকলেও তা তেমন একটা চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন মুসল্লি। বিশেষ করে টেলিফোন শিল্প সংস্থার পূর্ব পাশের সড়কে ধুলায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের। এতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানা গেছে। দ্রুত এই সড়কসহ আশপাশের সড়কগুলোতে পানি ছিটানোর দাবি জানান মুসল্লিরা।
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব আজ ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। চলবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। আর দ্বিতীয় পর্ব ৩১ জানুয়ারি শুরু হয়ে ২ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে।
সূত্র - প্রথম আলো

