পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর নিজের নির্বাচনী এলাকায় সোনার নৌকা ও সোনার কোটপিন উপহার পেয়েছেন শাহরিয়ার আলম। আজ শুক্রবার নিজের এলাকা রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁকে এসব উপহার দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। শিশুদের অনেকে ক্ষুধায় কাহিল হয়ে পড়লেও দুপুরে তাদের কাউকে কিছুই খেতে দেওয়া হয়নি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীকে সোনার নৌকা উপহার দেন স্থানীয় পৌরসভার মেয়র আক্কাস আলী। এ সময় উপজেলার মনিগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কাউসার আহাম্মেদ তাঁকে একটি সোনার কোটপিন উপহার দেন।
তবে প্রতিমন্ত্রী তাঁকে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের উপহার না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। তিনি এই উপহারের সমপরিমাণ অর্থ স্থানীয় একটি প্রতিবন্ধী সংস্থায় দান করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের বিষয়টি নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন না করার জন্য অনুরোধ জানান। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে একজন বক্তা ঘোষণা দেন, যেসব বিদ্যালয়ের শিশুরা না খেয়ে এসেছে তারা চলে যেতে পারে।মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে শিক্ষার্থীরা। ছবিটি বেলা আড়াইটার সময় তোলা। ছবি: প্রথম আলো
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় দুটি থানায় দুদিন ধরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রথম দিন সংবর্ধনা হয় চারঘাট উপজেলায়। আজ হয়েছে বাঘায়। এ জন্য বাঘা হাইস্কুল মাঠে বিশাল প্যান্ডেল স্থাপন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রীর অভ্যর্থনা জানাতে জেলা চারঘাট ও বাঘা উপজেলার বিভিন্ন সড়কে অর্ধশতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়। এসব তোরণ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রবেশপথে বাঘা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত দুই সারিতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের কয়েক শ শিক্ষার্থীকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরের আগেই তাদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে আসতে বলা হয়েছিল। সেখান থেকে তাদের বেলা আড়াইটার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে সোনার কোটপিন পরিয়ে দিচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। ছবি: প্রথম আলোহরিরামপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহরাব হোসেন বলে, সে সকালে খেয়েই বিদ্যালয়ে এসেছিল। সেখান থেকে তাকে এখানে আসতে হয়েছে। তার দুপুরে খাওয়া হয়নি। বেলা দুইটার দিকে সারিতে দাঁড়ানো রহমতুল্লাহ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা ও আঞ্জুমান সিদ্দিকা জানায়, তারা দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে এসেছে। পরে সেখানে দাঁড়িয়েছে। তাদের দুপুরে কোনো খাওয়া হয়নি। বাঘা ইসলামী একাডেমি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাকিল আহাম্মেদ জানায়, তারা বেলা ১১টার দিকেই বিদ্যালয়ে এসেছে। পরে সেখান থেকে অনুষ্ঠানে এসেছে। দুপুরের খাওয়া হয়নি।
জুমার নামাজ শেষে মন্ত্রী নেতা-কর্মীদের নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আজিজুল আলমের বাসায় খেতে যান। সেখান থেকে তিনি বিকেল চারটা ৩৮ মিনিটের সময় মঞ্চে আসেন। তিনি আসার পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বাবুল ইসলাম ঘোষণা দেন, যেসব বিদ্যালয়ের বাচ্চারা দুপুরে না খেয়ে অনুষ্ঠানে এসেছে, তারা চলে যেতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে ওঠার পর তাঁকে উদ্দেশ করে সংগীত পরিবেশন করেন শিশু একাডেমির শিক্ষার্থীরা। এরপর পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁর হাতে ফুলের তোড়া ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আজিজুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন, জেলা মহিলা যুবলীগের সভাপতি নার্গিস শেলী, সাবেক ছাত্রনেতা ও আওয়ামী লীগের নেতা নকিবুল ইসলাম, রাজশাহী জেলা যুবলীগের সভাপতি আবু সালেহ, কর্নেল (অব.) রমজান আলী, উপজেলা সৈনিক লীগের সভাপতি নহু সরকার প্রমুখ।
সূত্র - প্রথম আলো

