প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না এলাকার রোগীরা। বিভাগীয় চিকিৎসকের অভাবে অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে মূল্যবান চিকিৎসাসরঞ্জাম ও অস্ত্রোপচারকক্ষ। এতে অনেক সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ৫০ শয্যার এ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২১ জন চিকিৎসক থাকার কথা। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ পাঁচটি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি। অন্য পাঁচ চিকিৎসক জেনারেল হাসপাতালে প্রেষণে রয়েছেন। ফলে, ১১ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে জোড়াতালির চিকিৎসাসেবা।
শূন্য পদগুলো হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (এনেসথেসিয়া), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (ইএনটি) ও সহকারী সার্জন (এসি)। তা ছাড়া নগরের জেনারেল হাসপাতালে প্রেষণে আছেন জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) আসমা ফেরদৌসি, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) সহিদুল হক, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) ফাহমিদা রশিদ, সহকারী সার্জন (ইএমও) এ কে এম হারুনুর রশিদ ও সহকারী সার্জন (প্যাথলজিস্ট) শামসুন নাহার আজম।
জানা গেছে, ৩১ শয্যার স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ২০০৬ সালের ১৬ মার্চ ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। পরবর্তী সময়ে এতে ডেন্টাল ইউনিট, অপারেশন টেবিল (হাইড্রোলিক), ইসিজি মেশিন, অটোক্যাব, সেন্টিফিউজ মেশিন, স্টেরিলাইজার, ব্লাড ব্যাংক, রেফ্রিজারেটর, এক্স-রে ড্রায়ার মেশিন ইত্যাদি আধুনিক চিকিৎসাসরঞ্জাম সরবরাহ দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় সরঞ্জামগুলো অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সার্জারি চিকিৎসক ও অবেদনবিদ না থাকায় কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার হচ্ছে না। এ কারণে কাজে আসছে না অস্ত্রোপচারকক্ষের দামি সব যন্ত্রপাতি। অন্যদিকে, কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে রোগীরা।
বটতলী গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আলম (৩৮) বলেন, ‘সপ্তাহ দুয়েক আগে আমার ছোট ভাই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হাত-পায়ে আঘাত পেলে তাকে আনোয়ারা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাই। কিন্ত সেখানে অস্ত্রোপাচারের ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে নগরের হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করতে হয়েছে।’
চাতরী গ্রামের আবুল বশর (৩০) জানান, তিনি তাঁর সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান প্রায় দুই সপ্তাহ আগে। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর (স্ত্রীর) অস্ত্রোপাচার প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক নেই। ফলে, স্ত্রীকে নগরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করাতে বাধ্য হন তিনি।
জানতে চাইলে উপজেলা আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জামাল চিকিৎসক-সংকটের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকসহ অন্যান্য সমস্যার কথা সিভিল সার্জন কার্যালয়কে জানানো হয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো

