মফস্বল থেকে বদলি হয়ে শহরে আসতে চিকিৎসকরা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। প্রতিদিন এসব চিকিৎসকের বদলির তদবিরে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। মফস্বল এলাকায় নিয়োগ হলেও যোগদানের পর আর থাকছেন না তারা। পোস্টিং পাওয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না অনেক চিকিৎসককে। এদিকে উপজেলা পর্যায়ে ২৫ শতাংশ চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় ভেঙে পড়েছে গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা। আবার কর্ম এলাকা ছেড়ে কেউ কেউ জেলা শহরে আবার অনেকে বিভাগীয় শহরের প্রাইভেট ক্লিনিকে কাজ করছেন। এতে মফস্বলের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আর হাতেগোনা দুই-একজন কর্মস্থলে থাকলেও রোগীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের দুই তলা ও তিন তলায় চিকিৎসকদের জটলা। সবার হাতে বদলির আবেদন। তারা অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নানাভাবে যোগাযোগ করছেন পছন্দের হাসপাতালগুলোতে বদলি হতে। যদিও তাদের অধিকাংশই প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাওয়ার অঙ্গীকার করেই নিয়োগ পেয়েছিলেন বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুনামগঞ্জ হাওর অঞ্চল থেকে বদলির জন্য আসা এক চিকিৎসক জানান, যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার কর্মস্থল সেখানে যেতে হলে ইঞ্জিন নৌকায় যেতে হয়। এ ছাড়া সেখানে কোনো বিদ্যুৎ নেই। এমনকি সে অঞ্চলে থেকে চিকিৎসা শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা নেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. উত্তম বড়ুয়া বলেন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে অনেক ঘাত প্রতিঘাত অতিক্রম করতে হয়। তবে বেশিরভাগ চিকিৎসক নিজেকে মানিয়ে নিতে না পারায় এ সমস্যা তৈরি হয়। পেশাগত কারণে কর্মস্থলে সেবার মানসিকতা নিয়ে থাকা উচিত। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পর্যায়ে ২৫ শতাংশ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। অথচ মফস্বলে চিকিৎসক রাখার কথা বলে মহাজোট সরকার এডহক ভিত্তিতে প্রথমে চার হাজার ১৩৩ চিকিৎসক নিয়োগ দেয়। এর পর স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূলে পৌঁছে দিতে এডহক ভিত্তিতে আরও সাড়ে তিন হাজার সহকারী সার্জন, পর্যায়ক্রমে আরও ৫৮২ সহকারী সার্জনকে নিয়োগ প্রদান করে। অধিদফতরের একটি পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ঢাকা ছাড়া দেশে সরকারি চিকিৎসকদের পদ প্রায় ২৪ হাজার ৩০০। এগুলোর মধ্যে ৮ হাজারের বেশি পদ শূন্য। ৪৮১টি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকদের পদ রয়েছে ৯ হাজার ১৫০টি। বর্তমানে ২ হাজার ২৯৪টি পদে চিকিৎসক নেই। মহাজোট সরকারের আমলে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে দেড় হাজার চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেলেও এসব চিকিৎসকের অনেকেই কর্মস্থলে যোগদান করেই শহরে নিজস্ব চেম্বার খুলে চিকিৎসা ব্যবসা শুরু করেছেন। বাংলাদেশ প্রাইভেট প্র্যাক্টিশনার্স ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চিকিৎসকদের শহরে ও মফস্বলে একই বেতন। তবে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ, বিদেশ ভ্রমণসহ নানা সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হন বলে মফস্বল এলাকায় না থাকার মূল কারণ।
সূত্র - প্রথম আলো

