পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৮ বছরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সবচেয়ে বেশি শীত পড়েছে এ মৌসুমে। অথচ তীব্র শীতে মাথাগোঁজার ঠাঁই নেই দিল্লির লক্ষাধিক মানুষের। বিশেষ করে রাতের বেলায় থাকার জায়গা পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে গৃহহীনদের।
আজ বৃহস্পতিবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার ও অলাভজনক সংগঠনগুলো গৃহহীনদের আশ্রয় দিতে চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দুর্দশাগ্রস্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের তুলনায় এ সংখ্যা নেহাতই কম। রাস্তাঘাটে শীতে কাবু লোকজনকে দেখলে বিষয়টি সহজেই অনুমেয়।
উত্তর-পূর্ব দিল্লির মনসরোবর পার্ক পাতালপথের পাশের বস্তির বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ রফিক। বড়দিনের পরদিন তাঁদের আশ্রয়স্থলটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে সরকার। এখন স্ত্রীকে নিয়ে ঘরহারা তিনি। রফিকসহ ওই বস্তির বাসিন্দা ১৭৫টি পরিবারকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে ভারতের রেল কর্তৃপক্ষ। দিল্লির তীব্র শীতও তাঁদের রক্ষা করতে পারেনি। বর্তমানে বয়োবৃদ্ধ রফিকের মতো ৯০০ জন ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নিজেদের রক্ষার চেষ্টা করছে। তাদের মধ্যে ৫০০ জন আবার শিশু।
এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে, শৈত্যপ্রবাহে দিল্লিতে কমপক্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। আর এই শীতে রফিক ও তাঁর স্ত্রীকে হামাগুড়ি দিয়ে ময়লার মধ্যে বসে থাকতে দেখা গেছে। তাঁদের পাশে টুকরো টুকরো প্লাস্টিক থেকে ধূমায়িত আগুন জ্বলছিল।
দিল্লির নবগঠিত আম আদমি পার্টির (এএপি) সরকার সব ধরনের উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ ছাড়া দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল অস্থায়ী তাঁবুর আশ্রয়ের পরিবর্তে ভ্রাম্যমাণ বাড়িতে পরিণত করার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি ৪৫টি নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দিল্লিতে ১৮০টি নৈশকালীন আশ্রয়কেন্দ্র আছে। এগুলো বিপুলসংখ্যক গৃহহীনের আশ্রয়ের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে না।
সূত্র - প্রথম আলো

