home top banner

News

রোগী বাড়লেও বাড়েনি সুযোগ-সুবিধা
26 December,13
Tagged In:  public health  burn unit  dhaka medical college   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   45

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দগ্ধ রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তবে সেই অনুপাতে বাড়েনি সুযোগ-সুবিধা। নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। নেই রোগীর তুলনায় প্রয়োজনীয় শয্যাও। এ কারণে রোগীর চাপ সামাল দিতে বেশ গলদঘর্ম হতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সবাইকে। সম্প্রতি হরতাল-অবরোধের আগুনে পোড়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে।

ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামাল দেওয়াসহ বিভিন্ন অসুবিধা কাটিয়ে উঠতে এ বছরের নভেম্বরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বার্ন ইউনিটকে ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করার প্রশাসনিক আদেশ জারি করেছে। তবে তা বাস্তবায়নে দেখা দিয়েছে ধীরগতি। চিঠি চালাচালিতেই সময়ক্ষেপণ হচ্ছে।

বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান আবুল কালাম প্রথম আলোকে বলেন, বার্ন ইউনিটকে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্লাস্টিক সার্জারি’ নামে প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ১২ নভেম্বর প্রশাসনিক আদেশ জারি করে। এরপর বর্তমান বার্ন ইউনিটের পাশে দুই বিঘা জমিতে বিশতলা ভবন নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখায় আবেদন করা হয়েছে। ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক শহীদুল্লাহ ও কবির উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৯৮৭ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৩ সালে ৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ ইউনিট আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। ২০০৯ সালে তা ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়। কিন্তু প্রতিবছর রোগীর সংখ্যা বেড়ে চললেও বাড়েনি ইউনিটের আওতা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। ২০০৪ সালে এখানে ভর্তি হয় এক হাজার ২৮৫ জন রোগী, ২০০৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ছয় হাজার ৫৭৩ জন। ২০০৬ সালে নয় হাজার ৫৭৬, ২০০৭ সালে ১৬ হাজার ১৫০, ২০০৮ সালে ১৮ হাজার ৭৫০, ২০০৯ সালে ১৯ হাজার ৬৭, ২০১০ সালে ২০ হাজার দুই, ২০১১ সালে ২৪ হাজার ১৫৬ এবং ২০১২ সালে ৩৩ হাজার ৬৫৫ জন রোগী বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিয়েছে। সাকল্যে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৪৯ হাজার ২১৪ জন। ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান এখনো করা হয়নি। হরতাল-অবরোধের আগুনে এ বছর দগ্ধ রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হবে বলে কর্তৃপক্ষের ধারণা।

বার্ন ইউনিট সৃষ্টির পর থেকে শয্যা অনুপাতে চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়েছিল। বর্তমানে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বাড়েনি চিকিৎসক, নার্সসহ জনবল। প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ জন রোগী এলে তা কোনোমতে সামাল দেওয়া গেলেও দুর্যোগের সময় ব্যবস্থাপনা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।

বার্ন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬০ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে বার্ন ইউনিট। এর মধ্যে ৪২ জনই হচ্ছেন শিক্ষানবিশ। প্রতিদিন গড়ে এ ইউনিটে ভর্তি থাকে ৩৫০ জন রোগী। সেবিকা দরকার ১৫০ জন। কিন্তু আছেন ৭০ জন। অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীও প্রয়োজনের তুলনায় কম।

চিকিৎসকেরা বলছেন, একজন সাধারণ রোগীর চেয়ে দগ্ধ রোগীর চিকিৎসা নিবিড় পর্যবেক্ষণের মধ্যে হতে হয়। এখানে দর্শনার্থী ছাড়াও এক রোগীর মাধ্যমে আরেক রোগী সংক্রমিত হতে পারে। এ জন্য প্রত্যেক রোগীর নিবিড় চিকিৎসা দরকার। কিন্তু দর্শনার্থী ও স্থানের অভাবে তা করা সম্ভব হচ্ছে না।

বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সামন্ত লাল সেন প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন রকমের প্রশাসন দিয়ে চলছে বার্ন ইউনিট। দেশে এই মুহূর্তে যেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ প্লাস্টিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ দরকার, সেখানে আছেন মাত্র ৩০ জন। এর সংখ্যা বাড়ানো দরকার। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় থাকা বার্ন ইউনিটগুলোকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। আর এ জন্য বার্ন ইউনিটকে দ্রুত ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করা আবশ্যক।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: রোগী সেজে চিকিৎসককে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা
Previous Health News: স্বাভাবিকভাবেই আরাফাতের মৃত্যু, দাবি রাশিয়ার

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')