
রাশিয়া আজ বৃহস্পতিবার বলেছে, বিষে নয়, স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয়েছে ফিলিস্তিনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাতের। তবে মস্কোতে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ফায়েদ মোস্তফা বলেছেন, আরাফাত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, গত বছর আল জাজিরার এক প্রামাণ্যচিত্রে আরাফাতের পোশাকে পলোনিয়াম ২১০ নামের এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতির বিষয়টি প্রচার করা হয়। এরপর আরাফাতের শরীর থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেন সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়ার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা।
গত মাসে সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের পরীক্ষায় পলোনিয়ামের আলামত পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্বন্ধে তাদের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে ফ্রান্সের বিজ্ঞানীরা যে মত দিয়েছেন, সেভাবেই কথা বলেছেন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরাও। দুই পক্ষের অভিমত, পলোনিয়াম প্রয়োগে হত্যা করা হয়নি আরাফাতকে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ফরেনসিক সংস্থা ফেডারেল মেডিকো-বায়োলজিক্যাল এজেন্সির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানায়, ‘ইয়াসির আরাফাত তেজস্ক্রিয়ার প্রভাবে মারা যাননি, স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি।’
১৯৯৩ সালে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইসরায়েলের সঙ্গে অস্থায়ী শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন আরাফাত। পরে ২০০০ সালে তিনি এক অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন। ২০০৪ সালে ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক পরিবেষ্টিত ফিলিস্তিনের রামাল্লার বাসভবনে আহারের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর চার সপ্তাহ পর ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
মৃত্যুর পর ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা যান আরাফাত। তবে ফ্রান্সের চিকিত্সকেরা ওই সময় বলেছিলেন, তাঁরা ফিলিস্তিনি নেতার অসুস্থতার কারণ বের করতে পারেননি। সে সময় আরাফাতের মৃত্যুর কোনো ময়নাতদন্তও হয়নি।
পরে আরাফাতের স্ত্রী সুহা আরাফাত বলেন, ঘনিষ্ঠ কারও দ্বারা তাঁর স্বামী রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে অনেক ফিলিস্তিনি তাঁদের নেতার মৃত্যুর জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। যদিও ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সূত্র - প্রথম আলো

