সিলেটের সিভিল সার্জনের কার্যালয়সহ ১২টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসক-সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এসব স্থানে সহকারী সার্জনদের ২৫১টি পদের বিপরীতে ১১২টিই শূন্য রয়েছে। কর্মরত ১৩৯ জনের মধ্যে অননুমোদিত অনুপস্থিত রয়েছেন ১১ জন।
সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চারজন করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্মরত থাকার কথা থাকলেও জেলার কানাইঘাটে তিনটি, জকিগঞ্জে দুটি, বালাগঞ্জে দুটি, বিশ্বনাথে একটি, ফেঞ্চুগঞ্জে একটি ও দক্ষিণ সুরমায় একটি করে পদ শূন্য রয়েছে। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট তিন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে ১০টি করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিপরীতে বিয়ানীবাজারে সাতটি, গোয়াইনঘাটে ছয়টি ও গোলাপগঞ্জে একটি করে পদ শূন্য রয়েছে।
হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-সংকট ছাড়াও কর্মকর্তা ও কর্মচারী-সংকটও প্রকটভাবে রয়েছে বলে সিভিল সার্জনের কার্যালয় নিশ্চিত করেছে। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক হাজার ৫১৩টি পদের বিপরীতে ৪০৯টি পদ শূন্য রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের মধ্যে এমএলএসএস, আয়া, ঝাড়ুদার ও নিরাপত্তা প্রহরীর পদগুলোতে সবচেয়ে কমসংখ্যক কর্মচারী কর্মরত থাকায় চিকিৎসক-রোগী সবাইকে বেশি ভুগতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা জানান, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-সংকট থাকায় সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারী-সংকটের কারণে হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের পদে পদে নানামুখী সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ অবস্থার দ্রুত সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সিভিল সার্জনের প্রশাসনিক শাখা থেকে জানা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৪০৯টি শূন্যপদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জেলা কীটতত্ত্ববিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রধান মেকানিক (রেফ্রিজারেশন)—এই তিনটি পদ দীর্ঘদিন ধরেই শূন্য রয়েছে। এর বাইরে দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তাদের মধ্যে নার্সিং সুপারভাইজারের ছয়টি পদের বিপরীতে চারটি, জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্সের ১৪৩টি পদের বিপরীতে ৩৩টি পদ শূন্য রয়েছে।
তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের মধ্যে প্রধান সহকারীর চারটি পদের মধ্যে তিনটি, হিসাবরক্ষকের চারটি পদের বিপরীতে তিনটি, ক্যাশিয়ারের ১৩টি পদের বিপরীতে নয়টি, প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষকের ১৩টি পদের বিপরীতে ছয়টি, চিকিৎসা সহকারীর (নবসৃষ্ট) ৭১টি পদের বিপরীতে ৬২টি, ফার্মাসিস্টের ৫০টি পদের বিপরীতে ৩৪টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্টের (ল্যাব) ২৯টি পদের বিপরীতে ২০টি, স্বাস্থ্য সহকারীর ৪৭০টি পদের বিপরীতে ৭০টি, সহকারী নার্সের ২২টির বিপরীতে ২০টি পদই শূন্য রয়েছে।
সিলেটের সিভিল সার্জন মো. আজহারুল ইসলাম লোকবল-সংকটের কথা স্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিছুদিনের মধ্যে সারা দেশে সাড়ে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ হওয়ার কথা রয়েছে। এটি হলে চিকিৎসক-সংকট পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে। এর বাইরে মাঠকর্মীসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারী-সংকটে আমাদের বেশি সমস্যা হচ্ছে। তবে এসব কিছুর পরও কর্মরত চিকিৎসকেরা আন্তরিকভাবে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।’
সূত্র - প্রথম আলো

