চলতি মৌসুমে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অর্ধেকই মারা গেছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে কাঁচা খেজুরের রস এই ভাইরাসের উৎস।
আইইডিসিআর সূত্র জানায়, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত ১৩টি জেলায় ২৭ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে ১৪ জনই মারা গেছে। ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়া জেলাগুলোতে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
ফরিদপুরে পাঁচজন আক্রান্ত হয়, এদের মধ্যে চারজন মারা যায়। মাগুরায় আক্রান্ত হয় পাঁচজন, মারা যায় দুজন। মানিকগঞ্জে দুজন আক্রান্ত হয়, দুজনই মারা যায়। মাদারীপুরে তিনজন আক্রান্ত হয়, দুজন মারা যায়। রংপুরে চারজন আক্রান্ত হয়, এদের দুজন মারা যায়। শরীয়তপুর ও নওগাঁয় একজন করে আক্রান্ত হয় এবং তারা মারা যায়। এ ছাড়া কুষ্টিয়া, রাজশাহী, নাটোর, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ঢাকায় একজন করে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করেছে আইইডিসিআর।
আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, ডিসেম্বর থেকে মে এই কয়েক মাস বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেয়। শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও দেখা গেছে এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার খুবই বেশি।
১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে নিপাহ ভাইরাসে মানুষ প্রথম আক্রান্ত হয়। আইইডিসিআরের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে এই ভাইরাসে মানুষ প্রথম আক্রান্ত হয় ২০০১ সালে, কুষ্টিয়া জেলায়।
২০১২ সালে আইইডিসিআরের বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেন যে বাংলাদেশে এই ভাইরাস বহন করছে বাদুড়। খেজুরের রস খাওয়ার সময় বাদুড়ের মুখ থেকে এই ভাইরাস রসে যায়। সেই রস খেলে মানুষ আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশে মানুষ থেকে মানুষে এই ভাইরাস ছড়ানোর নজিরও আছে। মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘রস জ্বাল দিয়ে খেলে বা গুড় খেলে কোনো ভয় নেই।’ এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথমে জ্বর হয়। তারপর শুরু হয় মাথাব্যথা। এরপর খিঁচুনি। তারপর মানুষ অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকে। একসময় অজ্ঞান হয়ে যায়। মাহমুদুর রহমান বলছেন, চিকিৎসকেরা রোগের লক্ষণ দেখে বুঝতে পারবেন রোগী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত কি না।
সূত্র - প্রথম আলো

