home top banner

News

কর্ণফুলীর পানি ও মাটিতে প্রাণঘাতী জীবাণু!
09 March,14
Tagged In:  environment  environment of Chittagong  environment pollution   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   13

কেবল শিল্পবর্জ্যের ক্ষতিকর রাসায়নিকই নয়, কর্ণফুলী নদীর পানি ও মাটি দূষিত হচ্ছে নানা প্রজাতির প্রাণঘাতি জীবাণু দ্বারা। এতে নদীর আশপাশের বাসিন্দারা আক্রান্ত হচ্ছেন নানা রোগে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস ও সমুদ্রবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের শিক্ষদের গবেষণায় এই তথ্য বের হয়ে আসে।

সম্প্রতি জাপানে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে চতুর্থ আন্তর্জাতিক কর্মশালায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস ও সমুদ্রবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ অহিদুল আলম ‘কর্ণফুলীর পানি ও মাটিতে ক্ষতিকর সালমোনেলা ও ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়া উপস্থিতি’ শিরোনামে একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। গবেষণা প্রতিবেদনে কর্ণফুলী নদী দূষণের এই চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

গত কয়েক বছর ধরে কর্ণফুলী নদীর পানি ও মাটিতে ক্ষতিকর অণুজীবের দূষণ নিয়ে গবেষণা করছেন ওহিদুল আলম। তাঁর গবেষণার তত্ত্বাবধান করেন একই বিভাগের প্রয়াত জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাফর। এ বিষয়ে তাঁদের দুজনের একটি যৌথ গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় আমেরিকার জার্নাল অব ব্যাকটেরিউলজি রিসার্চের ২০১৩ সালের জানুয়ারি সংখ্যায়।

‘স্পেটিয়াল অ্যান্ড টেম্পরাল ভেরিয়েশন অব ই.কলাই ইন ওয়াটার অ্যান্ড সয়েল অব কর্ণফুলী’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়, কর্ণফুলীর পানির চেয়ে মাটিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ই.কলাইয়ের পরিমাণ দুই থেকে তিন গুণ বেশি। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ই.কলাইয়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়।

এ বিষয়ে অহিদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ই.কলাইয়ের পাশাপাশি নদীর পানি ও মাটিতে ক্ষতিকর ভিব্রিও কলেরা, সালমোনেলা, স্ট্রেপটোকক্কাস ও স্টেফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। নদীর পানি ও মাটি অ্যাগার মিডিয়ায় কালচার করে এ পাঁচ ধরনের জীবাণুর সন্ধান পান তাঁরা।

অহিদুল জানান, ২০১২ সালের শুরুর দিকে মাৎস্য ও সমুদ্রবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের কিছু শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে কর্ণফুলীর দুই পাড়ের পাঁচ কিলোমিটার এলাকার প্রায় ১০০ পরিবারের ওপর প্রাথমিকভাবে গবেষণা চালান তাঁরা। তাঁরা দেখতে পান, প্রায় প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর তাঁরা কর্ণফুলীর বিভিন্ন অংশের পানি ও মাটি পরীক্ষা করে ক্ষতিকর জীবাণুর সন্ধান পান।

অহিদুল আলম বলেন, কর্ণফুলীর তীরের বাসিন্দারা এর পানি ও মাটি ব্যবহার করেন। এর ফলে নীরবে তাঁদের শরীরে প্রবেশ করছে জীবাণু। ক্ষতিকর এসব জীবাণু ডায়রিয়া, টায়ফয়েড, কলেরা ও নিউমোনিয়ার মতো রোগে সৃষ্টি করে।

তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, নদীর পানিতে সালমোনেলা বা ই.কলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেলেই দূষণ ঘটছে ধরে নিতে হবে।

এ দুটি ব্যাক্টেরিয়া মারত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এ ছাড়া স্ট্রেপটোকক্কাস ও স্টেফাইলোকক্কাসও পাওয়া গেছে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

নদীর চাক্তাই এলাকায় দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি বলে তিনি জানান। এখানে শিল্প বর্জ্যের পাশাপাশি জৈব বর্জ্যের পরিমাণ বেশি থাকায় বিভিন্ন জীবাণু বেশি মাত্রায় বংশবিস্তার করেছে।

এই দূষণ প্রতিরোধের উপায় কী? নদী তীরের বাসিন্দারাও কী করে এর প্রকোপ এড়িয়ে চলবেন? এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ওহিদুল বলেন, এ ক্ষেত্রে নদীর পানি ও মাটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। পানি অবশ্যই ফুটিয়ে পান করতে হবে। পাশাপাশি দূষণ প্রতিরোধে সরকারকেও ব্যবস্থা নিতে হবে। নদীতে শিল্প ও জৈব বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা গেলে এ পরিস্থিতি পাল্টাবে।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: বিদ্যালয়ের পাশে তামাকখেত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশুরা
Previous Health News: অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আ.লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর শোভাযাত্রা

More in News

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... See details

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... See details

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... See details

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... See details

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... See details

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')