তামাকখেতে যখন কীটনাশক ছিটানো হয়, তখন আমাদের শ্রেণীকক্ষে এর গন্ধ প্রবেশ করে। মাথা ঘোরে, বমি পায়, নাক-মুখ জ্বালাপোড়া করে। কিছুই খেতে ইচ্ছা করে না।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালার হাজাছড়া জোড়াব্রিজ নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সান্ত্বনা চাকমা এভাবেই তার সমস্যার কথা জানায়। কেবল হাজাছড়া নিন্মমাধ্যমিক বিদ্যালয়ই নয়, এর লাগোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশেই করা হয়েছে তামাক চাষ। এসব বিদ্যালয়ের আশপাশে রয়েছে ১০ থেকে ১৫টি তামাকচুল্লি। খেতে ছিটানো কীটনাশক আর তামাকচুল্লি থেকে বের হওয়া বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
উপজেলার হাজাছড়া জোড়াব্রিজ নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় দুটির পাশ ঘেঁষেই তামাকখেত। দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই তামাকখেতের কারণে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। হাজাছড়া জোড়াব্রিজ নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল চাকমা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কথা কী বলব! তামাকখেতে কীটনাশক ছিটালে আমরাই অসুস্থ হয়ে যাই।’
হাজাছড়া জোড়াব্রিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণয় চাকমা বলেন, ‘তামাকখেতের কীটনাশকের গন্ধে অনেক সময় আগেই ছুটি দিতে বাধ্য হই। কীটনাশকের কারণে শরীর খারাপ হচ্ছে শিশুদের।’
একই চিত্র দেখা গেছে উপজেলার কবাখালী কিন্ডারগার্টেন, হাচিনসনপুর উচ্চবিদ্যালয় ও হাচিনসনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে। আশপাশের তামাকচুল্লির ধোঁয়া প্রবেশ করে বিদ্যালয়গুলোর শ্রেণীকক্ষে। ফলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে।
হাচিনসনপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবপ্রিয় বড়ুয়া ও হাচিনসনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পঙ্কজ চৌধুরী বলেন, চুল্লিতে তামাক পোড়ানোর সময় কার্যালয়ে বসা যায় না। শিক্ষার্থীদের শ্বাসকষ্ট ও কাশি হয়।
দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক পলাশ নাগ বলেন, তামাকখেতে ছিটানো কীটনাশক বাতাসের সঙ্গে মিশে যায়। এ বিষাক্ত বাতাস শিশুরা যখন নিশ্বাসের সঙ্গে টেনে নেয়, তখন তাদের মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। শিশুদের শরীরের বৃদ্ধিও এতে ব্যাহত হয়। এতে ক্যানসারসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
এ প্রসঙ্গে দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলুল জাহিদ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে তামাকচুল্লি থাকলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর বিদ্যালয়ের আশপাশে তামাক চাষ বন্ধের জন্য স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে প্রচারণা চালানো হবে।
সূত্র - প্রথম আলো

