উঠতি গায়ক ব্র্যান্ডন হাওয়ার্ড ও ‘পপ কিং’ মাইকেল জ্যাকসনের ডিএনএর মধ্যে ৯৯.৯ শতাংশ মিল পাওয়া গেছে বলেই দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দন্ত চিকিত্সক যোসেফ গুডম্যান। শুধু তা-ই নয়, জ্যাকসনের চেহারার সঙ্গে অদ্ভুত সাদৃশ্য রয়েছে ব্র্যান্ডনের। তবে কি প্রিন্স, ব্ল্যাংকেট ও প্যারিসের পর জ্যাকসনের চতুর্থ সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছেন ব্র্যান্ডন! সম্প্রতি এক খবরে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে হলিউডলাইফ ডটকম।
এ প্রসঙ্গে বেভারলি হিলসের দন্ত চিকিত্সক গুডম্যান জানিয়েছেন, নিলাম থেকে দাঁতের চিকিত্সায় ব্যবহূত হয় এমন একটি যন্ত্র কিনেছিলেন তিনি। ওই যন্ত্র থেকে তিনি প্রয়াত মাইকেল জ্যাকসনের ডিএনএ সংগ্রহ করেন। পরে ব্র্যান্ডন ও জ্যাকসনের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় ৯৯.৯ শতাংশ মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গুডম্যান দাবি করেন, জ্যাকসনই যে ব্র্যান্ডনের বাবা তা শতভাগ নিশ্চিত করে বলা না গেলেও এর সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ।
সম্প্রতি বেভারলি হিলসে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন জাহাজ ব্যবসায়ী আলকি ডেভিড। সেখানে ব্র্যান্ডন ও জ্যাকসনের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল জানানো হয়। অবশ্য কোন ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে সে সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি। ডিএনএ পরীক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির ছিলেন না ব্র্যান্ডন। আলকি ডেভিসের সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে তাঁর কোনো রকম সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন ৩১ বছর বয়সী এ গায়ক। তবে ব্র্যান্ডন তাঁর ফেসবুক পাতায় লেখা এক বার্তায় স্বীকার করেছেন, পরীক্ষা করানোর জন্য নিজের একটি ডিএনএ নমুনা দিয়েছিলেন তিনি।
মাইকেল জ্যাকসনকে নিজের কাজের ক্ষেত্রে বড় অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করলেও ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে ব্র্যান্ডন বলেছেন, ‘আমি কখনোই নিজেকে মাইকেল জ্যাকসনের সন্তান হিসেবে দাবি করিনি। অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য জ্যাকসন এস্টেটের বিরুদ্ধে মামলাও আমি করছি না। নিজেকে চালানোর জন্য উপার্জন করার সামর্থ্য আমার আছে। আমি যথেষ্ট স্বনির্ভর এবং নিজের খেয়াল নিজেই রাখতে পারি।’
ব্র্যান্ডন হাওয়ার্ডের মা পপগায়িকা মিকি হাওয়ার্ড। তাঁর ডাক নাম বিলি। জ্যাকসন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিলির জানাশোনা ছিল। ‘পোয়েটিক জাস্টিস’ ছবিতে জ্যাকসনের বোন জ্যানেট জ্যাকসনের সঙ্গে অভিনয়ও করেছিলেন বিলি। ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় মাইকেল জ্যাকসনের সাড়া জাগানো গান ‘বিলি জিন’। এর বছর খানেক আগে ব্র্যান্ডনের জন্ম হয়েছিল। একটি শিশুকে পিতৃত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিষয়বস্তু নিয়ে ‘বিলি জিন’ গানটি লিখেছিলেন মাইকেল জ্যাকসন। গানটির একটি লাইনে বলা হয়েছে, ‘বিলি জিন আমার প্রেমিকা নয়, সে কেবলই একটি মেয়ে যার দাবি আমিই তার কাছে সবকিছু। কিন্তু শিশুটি আমার সন্তান নয়।’
মাইকেল জ্যাকসনের দুই ছেলে প্রিন্স মাইকেল (১৭) ও ব্ল্যাংকেট (১২) এবং এক মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন (১৬)। অবশ্য গত বছর যুক্তরাজ্যের ‘ডেইলি স্টার’ পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, এই তিন সন্তানের প্রকৃত বাবা জ্যাকসন নন। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ায় জ্যাকসনের মনে ভয় ঢুকেছিল, তিনি সম্ভবত সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে পারবেন না। কিন্তু বরাবরই সুস্থ, সুন্দর ও মেধাবী সন্তানের আকাঙ্ক্ষা ছিল তাঁর। এ জন্য তিনি জেনেটিক প্রকৌশলের সহায়তা নিয়েছিলেন।
উন্নত মানের শুক্রাণু সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে জ্যাকসনের সাবেক স্ত্রী ডেবি রোয়ের ডিম্বাণুর সঙ্গে কৃত্রিমভাবে নিষিক্ত করা হয়েছিল। এভাবেই প্রিন্স ও প্যারিসের জন্ম দেন ডেবি। পরে একই উপায়ে ব্ল্যাংকেটের জন্ম দেন অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী। জ্যাকসনকে কথা দিয়েছিলেন বলেই এ বিষয়ে জনসমক্ষে মুখ খোলেননি প্রিন্স ও প্যারিসের মা ডেবি।
সূত্র - প্রথম আলো

