ফুটবল বিশ্বের নতুন বছরটা শুরু হলো শোকের আবহে। বছরের পঞ্চম দিনেই মৃত্যুলোকে পাড়ি জমালেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ইউসেবিও। ৭১ বছর বয়সে আজ শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই কিংবদন্তি পর্তুগিজ ফুটবলার। হূদরোগে মারা গেছেন ১৯৬৬ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
দুর্দান্ত গতি আর গোল করার অবিশ্বাস্য দক্ষতার জন্য পরিচিতি পেয়েছিলেন ‘কালো চিতা’ নামে। ১৯৬১ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত পর্তুগালের জার্সি গায়ে ৬৪টি ম্যাচ খেলে তিনি করেছিলেন ৪১টি গোল। বিশ্বকাপে পর্তুগাল সর্বোচ্চ সাফল্যও পেয়েছিল ইউসেবিওর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জনই এখন পর্যন্ত পর্তুগালের সর্বোচ্চ অর্জন। সেবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ নয়টি গোল করে গোল্ডেন বুটও জিতেছিলেন মোজাম্বিকে জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মতো ক্লাব পর্যায়েও ইউসেবিও ছিলেন একইরকম সফল। ১৯৬০ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ইউসেবিওর জাদুতে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা হয়ে উঠেছিল ইউরোপের পরাশক্তি। বেনফিকার জার্সি গায়ে ৩১৩টি ম্যাচ খেলেই করেছিলেন ৩১৯টি গোল। এখনো বেনফিকার সর্বোচ্চ গোলদাতা তালিকার শীর্ষেই শোভা পাচ্ছে ইউসেবিওর নাম।
বেনফিকাতে যে ১৫ বছর ছিলেন, সে সময় ১১টি লিগ শিরোপাই উঠেছিল ইউসেবিওর হাতে। ছয়বার মৌসুম শেষ করেছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে। দুইবার জিতেছিলেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট। ১৯৬৫ সালের বর্ষসেরা ইউরোপিয়ান ফুটবলারের পুরস্কারটাও উঠেছিল ইউসেবিওর হাতে। ১৯৬২ সালে জিতেছিলেন ইউরোপিয়ান কাপও।
৭৪৫ পেশাদার ম্যাচে ৭৩৩ গোল—এই পরিসংখ্যানই বলছে, সর্বকালের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার ছিলেন। ১৯৭৩ সালে জাতীয় দল থেকে অবসর নেন। দীর্ঘ দিন পর্যন্ত ছিলেন পর্তুগালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৬৪ ম্যাচে করেছিলেন ৪১ গোল। জাতীয় দল থেকে বিদায়ের পরও ক্লাব ফুটবলে খেলে গেছেন আরও কয়েক বছর। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব নিউ জার্সি আমেরিকানসের হয়ে খেলে ১৯৭৯ সালে অবসর নেন। জায়গা পেয়েছিলেন পেলের করা ১২৫ কিংবদন্তি ফুটবলারের তালিকায়ও।
তাঁর বিদায়ে ফুটবল হারিয়ে ফেলল একটি নক্ষত্র।
সূত্র - প্রথম আলো

