ক্যানসার রোগের ঝুঁকি কমাতে গত বছর অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন অস্কারজয়ী হলিউডের অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। আবারও তাঁকে চিকিত্সকের ছুরি-কাঁচির দ্বারস্থ হতে হবে বলেই সম্প্রতি জানিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এ তারকা অভিনেত্রী।
এ প্রসঙ্গে জোলি বলেন, ‘আমার আরেকটি অস্ত্রোপচার বাকি রয়ে গেছে। সেটা করাতে হবে। আমার মতো সমস্যায় আক্রান্ত মানুষদের সঙ্গে প্রায়ই আমার কথা হয়। আমি জানি, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সময়ে আমার করণীয় সম্পর্কে চমত্কার সে সব মানুষের কাছ থেকে আমি যথাযথ উপদেশ পাব।’ সম্প্রতি এক খবরে এমনটিই জানিয়েছে এইস শোবিজ।
জোলি আরও বলেন, ‘সুযোগ পেলেই স্তন ক্যানসার কিংবা গর্ভাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের সঙ্গে আমি কথা বলি। যাঁদের স্ত্রী কিংবা কন্যা ক্যানসারে আক্রান্ত, তাঁদের সঙ্গেও আমি কথা বলি। মরণঘাতী ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন এমন মানুষদের স্বজনদের সঙ্গেও আমার কথা হয়। ক্যানসার থেকে মুক্তি পেতে অস্ত্রোপচারের কথা ভাবছেন এমন রোগী এবং তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বললে তাঁদের খুব কাছের মানুষ মনে হয় আমার কাছে।’
গত বছর অস্ত্রোপচারের পর ভক্তদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সহমর্মিতা পেয়ে অভিভূত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন জোলি। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘অস্ত্রোপচারের পর অগণিত মানুষের সহমর্মিতা ও ভালোবাসায় আমি সিক্ত হয়েছি। বিষয়টি আমার ভেতর অদ্ভুত এক ভালো লাগার জন্ম দিয়েছে। আমি অভিভূত হয়ে গেছি। সব মিলিয়ে আমি এখন অনেক ভালো আছি।’
প্রসঙ্গত, ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০০৭ সালে মাত্র ৫৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছিলেন জোলির মা মার্কিন অভিনেত্রী মার্শেলাইন বারট্র্যান্ড। মায়ের কাছ থেকে ‘বিআরসিএওয়ান’ নামের ত্রুটিযুক্ত জিন পেয়েছিলেন জোলি। এই জিনের প্রভাবে গর্ভাশয় কিংবা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। জোলির ক্ষেত্রে তেমন ঝুঁকি ধরা পড়ায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে গত বছর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুটি স্তনই কেটে ফেলতে হয় জোলিকে।
এ প্রসঙ্গে জোলি বলেছিলেন, ‘প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চিকিত্সকেরা আমাকে জানালেন, ৮৭ শতাংশ স্তন ক্যানসার ও ৫০ শতাংশ গর্ভাশয় ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে আমার। সত্যটা জানার পর ঝুঁকি যতটা সম্ভব কমানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্তন কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আমার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। অস্ত্রোপচারের পর আমার স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি ৮৭ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।’ তিন মাস ধরে চলে জোলির ওই জটিল অস্ত্রোপচার-প্রক্রিয়া। গত বছরের এপ্রিল মাসে তা শেষ হয়।
সূত্র - প্রথম আলো

