বিশেষত যারা পানের সঙ্গে জর্দা খান এবং নিয়মিত অনেকবার পান খান তাদের মুখের ঘা বেশি হয় এবং লক্ষ্য করা গেছে অনেকেই তামাক পাতাকে হাতের মধ্যে নিয়ে চুনের সঙ্গে মিশিয়ে গালের মধ্যবর্তী স্থানে রাখেন তাতে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ওইস্থানে ঘা হতে পারে। শুধু ঘা নয়_ পরে এ ঘা ক্যান্সারেও রূপ নিতে পারে।বাংলাদেশেই নয়_ ভারতের বিভিন্ন স্থানে যেখানে তামাক পাতা নেশার মতো ব্যবহৃত হয় সেসব অঞ্চলেরও মুখের ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি।বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির তথ্যানুযায়ী এবং ডায়াবেটিস সমিতির বারডেম হাসপাতালে ডেন্টাল বিভাগের দুটি তথ্যে দেখা যায়, যারা নিয়মিত ধূমপান করেনএবং তামাক পাতা, জর্দা দিয়ে পান খান, তামাক পাতা গালের মধ্যে রেখে ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে শতকরা ১০০ জনের মুখের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে যারা জর্দা খান বা তামাক পাতা খান তাদের রিস্ক ফ্যাক্টর বা ঝুঁকি হতে পারে ৫০ ভাগ এবং যারা ধূমপান করেন এবং সেই সঙ্গে তামাক পাতাও পানের সঙ্গে ব্যবহার করেন তাদের ঝুঁকি শতকরা ১০০ ভাগ।
সুতরাং যাদের মুখে ঘা রয়েছে এবং এসব অভ্যাস ছাড়তে পেরেছেন তাদের মুখের ঘা থেকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ১০০ ভাগ নিশ্চিত ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মনে রাখবেন যদি মুখের মধ্যে এসব ঘা লক্ষ্য করেন এবং চিকিৎসার পরও দু'সপ্তাহ থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী হয়তবে অবশ্যই বায়োপসি অথবা মাংসের টিস্যু পরীক্ষা করে দেখতে হবে কারণ মুখের এসব অনেক ঘা বা সাপ ক্ষত গুলোকে বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন প্রি-ক্যান্সার নিশনবা ক্যান্সারের পূর্বাবস্থায় ক্ষত। সংক্ষেপে বলতে হয় যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, রিউম্যাটিক ডিজিজ ও পরিপাকতন্ত্রের রোগ রয়েছে এবং যারা দীর্ঘদিন নিয়মিত ভাবে ওষুধ গ্রহণ করেছেন, যারা কৃত্রিম দাঁত ব্যবহার করেন, যারা ধূমপান করেন বা তামাকপাতা বা জর্দাগুলো ব্যবহার করেন তারা অবশ্যই দাঁত ও মুখের যত্ন নেবেন এবং এসব ঘা দেখা দেয়া মাত্রই চিকিৎসার ব্যবস্থা নেবেন।
সবশেষে যারা ধূমপান করেন বা তামাকপাতা, জর্দা খান তাদের যেহেতু মুখের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বা ঝুঁকি ১০০ ভাগ সেহেতু মুখের ঘাবা ক্যান্সার প্রতিরোধে আজই ধূমপান ও সেই সঙ্গে তামাকপাতা এবং জর্দা ব্যবহার বন্ধ করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ জাতীয় রক্তচাপ গুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা মেনে চলা প্রয়োজন। কারণ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই ক্যান্সার রোগ থেকে মুক্ত থাকার একমাত্র উপায়।
সূত্র - যায়যায় দিন

