বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য মানুষই দায়ী বলে ৯৫ ভাগ নিশ্চিত হয়েছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। শুক্রবার বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির পেছনে মনুষ্যসৃষ্ট কারণই দায়ী বলে বিজ্ঞানীদের এ নিশ্চয়তার তথ্য জানিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ বিষয়ক আন্তঃসরকার সংস্থা ‘ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ (আইপিসিসি)।
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে পরিবেশ বিজ্ঞানীদের সপ্তাহব্যাপী সম্মেলনের পর শুক্রবার এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে আইপিসিসির বিশেষজ্ঞরা জানান, ১৯৫০ সালের পর বিশ্বের পরিবেশের আচরণে যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে তা কেবল মনুষ্য সৃষ্ট কারণেই। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী ভৌত প্রমাণাদিও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূখণ্ডে, বাতাসে এবং সাগরে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির বিষয়টি ‘স্পষ্টতর’।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, উষ্ণতা বৃদ্ধি ঠেকাতে গত ১৫ বছর ধরে কার্বন গ্যাস নিঃসরণ যে হারে কমানো গেছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
আইপিসিসির প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ আরও বেশি উষ্ণতা বাড়াবে এবং পরিবেশের নিয়মকে পুরো পরিবর্তন করে দেবে।
আইপিসিসির প্রতিবেদনটির ৩৬ পৃষ্ঠার প্রথম কিস্তিতে বলা হয়, ১৯৫০ সালের পর থেকে পরিবেশের যে নেতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে সেটা আগের সহস্রাব্দের চেয়েও বেশি।
আইপিসিসির কার্য নিবার্হী দলের সহ-সভাপতি কিন দাহে বলেন, বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ চালিয়ে আমরা দেখেছি, বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রপৃষ্ঠ উষ্ণ হয়ে উঠছে। বরফ গলে যাচ্ছে এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে।
স্টকহোমে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আরেক সহ-সভাপতি প্রফেসর থমাস স্টকার বলেন, ১৯৫০ সালের পর থেকে যে হারে উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি কারণের জন্য সরাসরি মানুষই দায়ী।
উল্লেখ্য, পরিবেশ বিজ্ঞানীদের হুঁশিয়ারির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে বৈশ্বিক উষ্ণতার বৃদ্ধির হার ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিশ্বনেতারা। তুলনামূলকভাবে সে লক্ষ্যে কিছুটা কার্বন গ্যাস নিঃসরণ কমানোও গেছে। কিন্তু আইপিসিসির প্রতিবেদন বলছে, গত ১৫ বছরে যে মাত্রায় গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানো গেছে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ কারণে বিশ্বকে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সুত্র - বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

