রাজপথ বা প্রধান সড়কগুলো থেকে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হলেও ঈদুল আজহার তিন দিন পরও রাজধানীর অনেক অলিগলিতে এগুলো রয়ে গেছে। বিশেষ করে পুরান ঢাকায় উৎকট গন্ধে এলাকার রাস্তায় চলাফেরা করা দায় হয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাসিন্দাদের দুর্ভোগের চিত্র পাওয়া যায়।
এ অবস্থায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন থেকে দাবি করা হয়েছে, পশুর বর্জ্যের দুর্গন্ধ দূর করতে দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় অন্তত ১০ টন ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান বিপন কুমার সাহা প্রথম আলোকে বলেন, উত্তর এলাকার জন্য সাত টন ব্লিচিং পাউডার কেনা হয়েছিল। পশু কোরবানির পর পাঁচ টন পাউডার ছিটানো হয়েছে। বাকিগুলো দরকার হয়নি। কোরবানির ৪৮ ঘণ্টা পর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষ করা হয়।
অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সেখানেও পাঁচ টনের মতো ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হয়েছে। ২ নম্বর অঞ্চলের বর্জ্য ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তাঁদের অঞ্চলে চাহিদামতো ব্লিচিং পাউডার যথাস্থানে ছিটানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অঞ্চলের অধীন পুরানা পল্টন, মতিঝিল, আরামবাগ, কমলাপুর, বাসাবো ও আশপাশের এলাকায় রাস্তাঘাট পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়েছে। এসব অঞ্চলে কোনো দুর্গন্ধ নেই।
কিন্তু পুরানা পল্টন লাইন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পথচারীরা নাকে রুমাল দিয়ে চলাফেরা করছেন। এলাকার বাসিন্দা শাহীন হোসেন জানান, সেখানে ব্লিচিং পাউডার দিতে দেখা যায়নি।
বাসাবো কদমতলার বাসিন্দা আবদুল হাই জানান, শুক্রবার পর্যন্ত চরম দুর্দশায় কাটাতে হয় তাঁদের। গতকাল সকালে এলাকায় ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হয়।
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর অঞ্চলভুক্ত গোপীবাগ, আর কে মিশন রোড, অভয় দাস লেন, কে এম দাস লেনসহ আশপাশের এলাকায় কোথাও ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হয়নি বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। গতকাল বেলা সোয়া ১১টায় আর কে মিশন রোডের ৬৪ নম্বর বাড়িসংলগ্ন রাস্তায় ছোপ ছোপ রক্ত দেখা যায়। উৎকট গন্ধে সে পথে চলাচলও যেন দুষ্কর। বাসিন্দা মোতালেব হোসেন বলেন, এ এলাকায় কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে দেখা যায়নি।
পুরান ঢাকার টিপু সুলতান রোড, ধোলাইখাল, রোকনপুর, লালবাগ, ইসলামবাগ, হাজারীবাগের অলিগলিতে একই রকম অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্র - প্রথম আলো

