home top banner

খবর

জীববৈচিত্র্য ও জলজ উদ্ভিদ বিপন্ন
০১ মার্চ, ১৪
Tagged In:  environment pollution  environment of Bangladesh   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   24

মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন হাওরে বিল সেঁচে মাছ ধরা হচ্ছে। এতে ছোট-বড় মাছের বংশবিস্তার এবং জলজ উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে। বিল সেঁচে মাছ ধরা নিষিদ্ধ হলেও অনেকেই তা মানছেন না। বিষয়টি নিয়ে মৎস্য বিভাগের জেলা সমন্বয় সভাতেও আলোচনা হয়েছে।

হাইল হাওরের একটি বিলে সেচ দেওয়ার সময় ৪ ফেব্রুয়ারি সেচযন্ত্র জব্দ করে মৎস্য বিভাগ। সেচ দিয়ে মাছ ধরায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে বদলির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় লোকজন ও মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার সদর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিস্তৃত হাইল হাওরের বিভিন্ন বিল সেঁচে মাছ ধরা হচ্ছে। ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে হাইল হাওরের বিয়াই বিলের (কাগাউড়া) একটি অংশে মাছ ধরার লক্ষ্যে সেচযন্ত্র লাগিয়ে পানি তোলা হচ্ছিল। ঠিক তখনই মৎস্য বিভাগের লোকজন উপস্থিত হয়ে সেচযন্ত্র জব্দ করেন। এ সময় মৎস্য বিভাগের লোকজনকে দেখে সেচযন্ত্র ব্যবহারকারীরা সটকে পড়েন। এদিকে সেচযন্ত্র জব্দ এবং সেচের জন্য তৈরি বিলের বাঁধ কেটে দেওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ওই দিনই শ্রীমঙ্গল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান খানের মুঠোফোনে ফোন করে বদলি করার হুমকি দিয়েছেন।

হাইল হাওরপাড়ের হাজীপুর গ্রামের মিরাশ আলী সম্প্রতি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাতেই বিল বেশি সেঁচা হয়। মেশিনের শব্দে ঘুমানো যায় না।’ হাইল হাওরের বাইক্কাবিল এলাকায় মিরাশের সঙ্গে আলাপকালেও সেচযন্ত্র চলার শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

এদিকে জেলার কাওয়াদীঘি ও হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন বিলও সেঁচে মাছ ধরা হচ্ছে বলে স্থানীয় মৎস্যজীবী সূত্রে জানা গেছে। মৎস্যজীবীদের অনেকে জানিয়েছেন, বিলে পানি কমে গেলে সেচের প্রবণতা বেড়ে যায়। সেচের মাধ্যমে বিল শুকিয়ে মাছ ধরার বিষয়টি নিয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি জেলা মৎস্য বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়। এ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বিল সেঁচে মাছ ধরা বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মৎস্য অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয় থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি প্রত্যেক উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিল সেঁচে মাছ ধরার কারণে কাদামাটির ভেতরে থাকা জিয়ল মাছও রক্ষা পায় না। ছোট-বড় ডিমঅলা মাছ মারা পড়ে। বিলে মাছ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের জলজ উদ্ভিদ ও কীটপতঙ্গ থাকে; যা পরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয়। বিল সেঁচে তার সবকিছুই নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান খান হাইল হাওরে বিল সেঁচে মাছ ধরা ও সেচযন্ত্র জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ জন্য আমাকে মোবাইল ফোনে বদলির হুমকি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যা হয় হবে, এবার হাইল হাওরে বিল সেচতে দেব না।’ তিনি জানান, লোকজন না পাওয়ায় কারও বিরুদ্ধে মামলা করা যায়নি।

জেলা মৎস্য কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নৃপেণ চন্দ্র দাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘মৎস্য সংরক্ষণ আইনে বিল সেঁচে ও বিষপ্রয়োগে মাছ মারা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতে মাছের বংশবিস্তার ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট এবং পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।’ সহকারী পরিচালক জানান, বিল সেঁচে মাছ ধরা হলে এক থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: বেশি বয়সে বাবা হলে সন্তানের ঝুঁকি!
Previous Health News: আয়া ও সেবিকা দিয়ে প্রসূতির চিকিৎসা নবজাতকের মৃত্যু

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')