রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী হাটের মাংস বিক্রির স্থাপনাটি (শেড) ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর স্তম্ভগুলোর (পিলার) পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে গেছে। যেকোনো সময় স্থাপনাটি ধসে মানুষের প্রাণহানি হতে পারে বলে মাংস ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন।
এ ছাড়া গণশৌচাগার না থাকায় হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় তারাগঞ্জ হাটের পর সবচেয়ে বড় হাট হচ্ছে ইকরচালী। এখানে সপ্তাহে তিন দিন—মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার ও রোববার হাট বসে।
গতকাল বৃহস্পতিবার হাট ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে পানিনিষ্কাশনের কোনো নালা নেই। মাছ বাজার বসেছে খোলা জায়গায়। পরিবেশও খুব নোংরা। শত শত লোক উপস্থিত থাকলেও কোনো শৌচাগার নেই। এ কারণে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রাকৃতিক কাজ সারতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচেই কাজ সারেন। এতে পরিবেশদূষণ হচ্ছে।
কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে হাটটির মাংস বাজারে একটি শেড (স্থাপনা) নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় শেডটি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। চরম ঝুঁকি নিয়ে ওই স্থানে মাংসবিক্রেতারা ব্যবসা করছেন। মাংসবিক্রেতা আবদুল জব্বার বলেন, ‘বৃষ্টি এলে শেডের টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে। সব পিলারের পলেস্তারা খসে পড়েছে। এখানে বসে মাংস বেচতে ভয় লাগে। মনে হয়, এই বুঝি মাথার ওপর ঘর ভেঙে পড়বে। সারাক্ষণই এ আতঙ্কে থাকি।’ আরেক মাংসবিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মাংস বিক্রির শেডটি ঠিক করার জন্য আমরা গত বছর ইকরচালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেছি। তিনি আমাদের কথাও দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে আর শেডটি সংস্কার করেননি।’ সবজি ব্যবসায়ী আমিনুল হক বলেন, প্রায় সাত বছর আগে তারাগঞ্জকে শতভাগ স্যানিটেশন সুবিধার আওতাভুক্ত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। অথচ ব্যস্ততম এই হাটটি এখনো গণশৌচাগার নির্মাণ করা হয়নি। ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন বলেন, ‘এ বছরই মাংস বিক্রির শেডটি সংস্কার করার পরিকল্পনা করছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মওলা বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে হাটটির সমস্যাগুলোর সমাধানের চেষ্টা করব।’
সূত্র - প্রথম আলো

