মূল সড়ক থেকে সরু একটি গলি চলে গেছে। গলিটি এতই সংকীর্ণ যে একজনের বেশি চলাচলের উপায় নেই। তা ছাড়া গলির পাশের পরিত্যক্ত ডোবার উপচে পড়া সব ময়লা-আবর্জনা এসেও মিশেছে চলার পথে। তাই বই-খাতা নিয়ে বেশ সাবধানে সারি করে হাঁটতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। গলি পেরিয়ে একটি আবাসিক ভবনের পেছনে দোতলা বিদ্যালয় ভবন। এর চারপাশে রয়েছে খালি জমি। কিন্তু সেই জমিও আবর্জনায় সয়লাব। কালো রঙের পানিতে ভাসছে এসব আবর্জনা। সেখানেও মশা-মাছির ভনভন। দিনের আলোতে স্পষ্ট চোখে পড়ছে তাদের বিচরণ।
এ ধরনের একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই গড়ে উঠেছে ইসমাইল সুকানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চট্টগ্রাম নগরের বন্দর এলাকার দক্ষিণ হালিশহর আকমল আলী সড়কে এর অবস্থান।
১৯৯৫ সালে গড়ে তোলা হয় বিদ্যালয়টি। শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করা হয় এখানে। প্রায় ৭০০ জন ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ে
চারজন স্থায়ী এবং চারজন অস্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন। প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল সোয়া চারটা পর্যন্ত পাঠদান চলে।
শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ নিম্নবিত্ত পরিবারের। কারও বাবা-মা পোশাকশিল্পে কাজ করেন। কারও অভিভাবক রিকশা, ঠেলাচালক ও সবজি বিক্রেতা। এলাকার বেড়িবাঁধ ও আকমল আলী সড়কের আশপাশ থেকে আসে তারা।
জানা যায়, ইসমাইল সুকানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায়ও ভালো ফল করেছে। বিদ্যালয়ের ৯০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন ছাড়া সবাই পাস করেছে।
শিক্ষার্থীরা সরকারি বিদ্যালয়ে কম খরচে পড়ার সুযোগ পেলেও বিদ্যালয়ের অসুস্থ পরিবেশেই কাটাতে হচ্ছে দিনের বেশির ভাগ সময়। তাদের নেই কোনো খেলাধুলার সুযোগ। কারণ, কোনো মাঠ নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের সামনের কয়েক গজ জায়গার মধ্যে দৌড়ঝাঁপ করছে ছেলেমেয়েরা। আর এর সামনেই রয়েছে পাশের বাড়ির খোলা নালা।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, একটু বৃষ্টি হলে অথবা ভরা বর্ষায় বিদ্যালয়ে আসার পুরো পথ এবং আশপাশে পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। তখন অনেক কষ্ট করে আসতে হয় বিদ্যালয়ে।
এসব ভোগান্তির কথা স্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক মাহবুবা বেগম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমনিতেই আমাদের স্কুলটি নিচু এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে। এ অবস্থায় মূল সড়কের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় নালা-নর্দমার সব ময়লা পানি এসে জমছে এখানে। আমরা পরিচালনা কমিটিকে বালু ফেলে রাস্তা ভরাট এবং আশপাশের আবর্জনা সরানোর অনুরোধ জানিয়েছি।’
সূত্র - প্রথম আলো

