রাজধানীতে এক হাজার শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এবং কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (কোয়েকা) বৃহস্পতিবার একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে।
বাংলাদেশের পক্ষে বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এবং কোরিয়ার পক্ষে কোয়েকার প্রেসিডেন্ট কিম ইয়ং মক এ সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এ বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোরিয়ান সরকারের চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর তিন বছর মেয়াদি এই হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ আগামী নভেম্বরে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী বিএসএমএমইউ’র জমিতে কোরিয়া সরকার হাসপাতালের অবকাঠামোসহ পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালটি নির্মাণ করে দেবে।
বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত জানান, রাজধানীর শাহবাগে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পেছনে সরকারি ১২ বিঘা জমির উপর বিশেষায়িত এই হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। হাসপাতাল নির্মাণের জন্য কোরিয়া সরকারের পক্ষে কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক বাংলাদেশ সরকারকে ১০০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে।
তিনি বলেন, এই বিশেষায়িত হাসপাতালটি একটি ‘পূর্ণাঙ্গ গবেষণা কেন্দ্র’ হবে। এখানে সব ধরনের গবেষণার উপযুক্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকবে। বর্তমানে যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বিদেশে যেতে হয়, এই হাসপাতালটি নির্মিত হলে দেশেই সেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, এই হাসপাতাল শুধু রোগিদের উন্নত চিকিৎসা সেবাই নিশ্চিত করবে না। এর মাধ্যমে দেশে চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নততর গবেষণার সুযোগও সৃষ্টি হবে।
এই বিশেষায়িত হাসপাতালে ১৮টি বিশেষায়িত ব্যবস্থায় বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং গবেষণা করা হবে। এগুলো হলো- লিভার, গল ব্লাডার ও প্যানক্রিস সেন্টার, অরগান ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার, ক্যানসার সেন্টার, ম্যাটারনাল এবং চাইল্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার, ডেন্টাল সেন্টার, কারডিওভাসকুলার/নিউরোসার্জারি সেন্টার, কমিউনিকেবল ডিজিজ সেন্টার, এনড্রোক্রিনোলজি ডায়াবেটিস সেন্টার, গ্যাসট্রোএনটারোলজি সেন্টার, রেসপিরেটরি সেন্টার, জেরিআট্রিক (বয়স্কদের চিকিৎসা) সেন্টার, জয়েন্ট/স্পাইন কর্ড সেন্টার, হার্ট সেন্টার, বার্ণ ইনজুরি সেন্টার, হেলথ স্ক্রিনিং সেন্টার, ইমারজেন্সি মেডিকেল সেন্টার, এমবুলেটরি সার্জারি সেন্টার এবং কিডনি মেশিন সেন্টার (হিমোডায়ালিসিস সেন্টার)।
সূত্র natunbarta.com

