দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ থেকে বাঁচতে অভিনব নাটকে মেতেছেন বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এ জন্য তারা হাসপাতাল ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ এনে মানববন্ধন করছেন।এমন অভিযোগ করেছেন সম্প্রতি বারডেম হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসা অবহেলায় জীবন হারানো সিরাজুল ইসলামের মেয়ে ফারহানা নাসরিন।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসক্লাব কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলামের মেয়ে ফারহানা নাসরিন এসব অভিযোগ করেন।
এর আগে সকালে হাসপাতাল ভাঙচুর ও লাঞ্ছনার অভিযোগ এনে বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসকরা শাহবাগে মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করেন।
দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে নাসরিন অভিযোগ করে বলেন, বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় তার বাবার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে চিকিৎসকরা তাদের লাঞ্চিত ও হাসপাতাল ভাংচুরের নাটক সাজিয়েছেন।
এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি দাবি করে ফরহানা নাসরিন বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মিথ্যাচার করছে। কারণ, আমার বাবা ভর্তি ছিলেন ১৩ তলায়। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করছে আমরা পঞ্চম তলায় ভাঙচুর করেছি এবং চিকিৎসকদের লাঞ্ছিত করেছি।”
নাসরিন দাবি করেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ভুল চিকিসায় আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে্- এটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে কোনো টাকা না নিয়েই আমার বাবার লাশ দিয়ে দিয়েছে।” এমনকি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসকদের লাঞ্ছিত বা হাসপাতালে ভাঙচুরের কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে পারবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে নাসরিন বলেন, “ঢাকা জেলার এএসপি বাবু আমার চাচা (বাবার ফুফাতো ভাই)। লাশ নেয়ার মতো কোনো অভিভাবক না থাকায় চাচা এসেছিলেন। এ সময় চাচার সঙ্গে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। তারা ভাঙচুর বা কোনো চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করেননি। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমার চাচার ইন্ধনে হাসপাতালে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।”
তার বাবাকে বারডেমে ভর্তি ও চিকিৎসার বিষয়ে নাসরিন বলেন, ৯ এপ্রিল রাত দুইটা ১০ মিনিটে তার বাবা বমি করতে থাকলে তাকে বারডেম হাসপাতালের ১৩ তলার ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ১৩৩১ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয়। সে সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ফারুক পাঠান তাকে চিকিৎসা করেন।
নাসরিন জানান, ১৩ এপ্রিল বিকেল চারটার দিকে হঠাৎ তার বাবার শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এ সময় তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চিকিৎসকরা অক্সিজেন নল দিয়ে চলে যায়।এমনকি কী কারণে রোগীর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে জানতে চাইলে চিকিৎসরা তা-ও জানাননি।
ওই দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অবস্থার আরো অবনতি হলে চিকিৎসকদের খবর দিলেও কেউ আসেননি বলে অভিযোগ করেন নাসরিন। তিনি বলেন, এরপর সাতটার দিকে দফায় দফায় চিকিৎসকদের বলা হলেও তারা আর্টিফিশিয়াল অক্সিজেন দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অথচ অক্সিজেন দেয়ার আগ মুহূর্ত পর্যযন্ত তার বাবা বমি করছিলেন। সন্ধ্যা সাতটা ২০ মিনিটে আর্টিফিশিয়াল অক্সিজেন পাম্প করার পরপরই মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণে তার বাবা মারা যান বলে বলে দাবি করেন নাসরিন।
চিকিৎসকদের অবহেলায় তার বাবার মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ করে নাসরিন বলেন, মৃত্যুর পর আইসিইউ চিকিৎসক জানিয়েছিলেন অক্সিজেন নল দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে আইসিইউতে ভর্তি করা জরুরি ছিল। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক এ বিষয়ে কিছু বলেননি।
ইসিজি মেশিন নষ্ট ছিল এমন অভিযোগ করে নাসরিন বলেন, দায়িত্বরত চিকিৎসক সোয়া আটটা ও নয়টায় দুটি ইসিজি করেন। রিপোর্ট দুটির মধ্যে কোনো মিল ছিল না। ইসিজি মেশিন নষ্ট ছিল বলে কর্তব্যরত নার্সরা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
নাসরিন জানান, চিকিৎসার ওই সময় দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন ডা. আনোয়ার হোসেন ও কল্যাণ দেবনাথ। দুজনই ছাত্র বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
চিকিৎসার অবহেলার জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়াসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল ইসলামের ছেলে হাসান শাহরিয়ার, জাতীয় প্রেসক্লাব কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক চান মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র - natunbarta.com

