বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মত বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব ফিস্টুলা নিরাময় দিবস। বাংলাদেশে এ রোগে সবচেয়ে ভুক্তভোগী হন সেসব রোগীরা যারা প্রসবজনিত ফিস্টুলায় ভোগেন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্ত প্রসবের কারণে প্রসবজনিত ফিস্টুলার সমস্যার শুরু।
শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি একজন ফিস্টুলা আক্রান্ত মানুষকে সামাজিকভাবেও অবহেলা এবং অবমাননার শিকার হতে হয়। কি এর প্রতিকার? আর এ রাগের নিরাময়ে সরকারই বা কি উদ্যোগ নিয়েছে?
দেশে ফিস্টুলা রোগীদের ওপর সর্বশেষ জরিপ হয়েছিল ২০০৩ সালে। এর পরে একদশক পেরিয়ে গেলেও এ সংক্রান্ত নতুন কোন পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। তবে সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী দেশে এই রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল একাত্তর হাজার।
আর ইউএনএফপিএ’র হিসেব অনুযায়ী প্রতিবছর অন্তত দুই হাজার মানুষ এ রোগে নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, কয়েক ধরনের ফিস্টুলা রোগী রয়েছে দেশে। এর মধ্যে প্রসবজনিত ফিস্টুলায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। ইউএনএফপিএ’র ফিস্টুলা ও ব্রেস্ট ক্যান্সার বিষয়ক প্রকল্পের কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দিকা বলছিলেন, বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্ত প্রসবের কারণে প্রসবজনিত ফিস্টুলার সমস্যায় আক্রান্ত হন মহিলারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়ের সাথে সাথে ফিস্টুলার বিষয়ে বাংলাদেশে সচেতনতা বাড়লেও, এখনো এ নিয়ে মানুষের নেতিবাচক মনোভাব আছে। অনেকেই এ রোগ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে লজ্জা পান। আর সেকারণেই চিকিৎসার সুযোগ পান না অনেক রোগী।
তবে, ইউএনএফপিএ বলছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফিস্টুলা রোগীরা অপারেশনের পর সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।
এদিকে, সরকার বলছে ফিস্টুলার মতো সমস্যার মোকাবেলায় বাংলাদেশে চিকিৎসার সুবিধা এবং প্রশিক্ষিত চিকিৎসক অনেক আছে। সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। তবে তারপরও সুবিধা বাড়াতে সরকার আরো পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নূরুল হক।
তিনি বলেন, "কয়েকটি ধাপে আমরা এ রোগ নিরাময়ের চেষ্টা করছি। এর মধ্যে রোগ চিহ্নিত করা, চিকিৎসা এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করছি। ইউএনএফপিএ’র সাথে দশটি সরকারি মেডিকেল কলেজে এ বিষয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।"
তিনি বলেন, "এছাড়া নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করার জন্যও আমরা মেডিকেল এ্যসিষ্ট্যান্ট, নার্স ও ধাত্রীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি।"
তবে সংশিষ্ট সকলেই বলছেন এ রোগ বিষয়ে আরো সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এর চিকিৎসা ও পূনর্বাসন সম্ভব। আর জাতিসংঘের এ বছরের ফিস্টুলা নিরাময় দিবসের প্রতিপাদ্যও তাই।
সূত্র - natunbarta.com

