স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের নিজ জেলা সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আজ সোমবার ছিল প্রায় চিকিৎসকশূন্য। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সোলায়মানসহ চারজন চিকিৎসক অনুপস্থিত ছিলেন। রোগীরা চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
আজ বেলা পৌনে ১১টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে রোগী দেখছেন দন্ত চিকিৎসক আলী হোসেন তালুকদার। আর জরুরি বিভাগে রোগী দেখছেন ইকবাল হাসান। এখানে কর্মরত নয়জন চিকিৎসকের মধ্যে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ আঞ্জুমানয়ারা বকুল ও অবেদনবিদ (অ্যানেসথেসিয়া) মাহবুবুল আলম সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেষণে (ডেপুটেশন) রয়েছেন। চিকিৎসক আসমাউল হুসনা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। মোমেনা পারভীন, শিমুল তালুকদার ও ইসরাত আলী হাসপাতালে আসেননি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সোলায়মান বগুড়া থেকে এসে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। আজ তিনিও হাসপাতালে ছিলেন না।
কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা প্রশ্নে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সোলায়মান এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘সিরাজগঞ্জে মিটিং ছিল। সেখান থেকে নিজ বাড়ি বগুড়ায় এসেছি। আগামীকাল তাড়াশে যাব।’ অন্য চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির ব্যাপারে তিনি বলেন, চারজন কর্তব্যরত থাকার কথা। কেন ছিল না, বিষয়টি জেনে জানানো যাবে।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন মাইনুদ্দিন মিঞা বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাকুয়াদীঘি গ্রামের আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘চিকিৎসক নেই, বিষয়টি জানতাম না। স্ত্রীকে নিয়ে এসে চিকিৎসক না পেয়ে বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী জানান, চিকিৎসকেরা নিয়মিত না এলেও তাঁদের অনুপস্থিত ধরা হয় না। সবার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর ঠিকমতোই দেখানো হয়।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ রায়হান কবির বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে দুই দিন আমি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের অনুপস্থিত দেখতে পাই। বিষয়টি উপজেলার মাসিক সভায় উপস্থাপন করে রেজুলেশন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়েছি।’ তিনি জানান, চিকিৎসকেরা অনুপস্থিত থাকেন এবং দু-একজন চিকিৎসক হাসপাতাল চলাকালীন সময়ে হাসপাতাল গেটের ক্লিনিকে রোগী দেখেন, এমন খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে এর সত্যতা পান তিনি। বিষয়টি সিভিল সার্জনকে জানানোর পরও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
উল্লেখ্য, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে গতকাল রোববার নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাত চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সূত্র -প্রথম আলো

