শীতের সঙ্গে যেন পাল্লা দিয়েই ঘরে ঘরে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ঠান্ডাজনিত নানা রোগে। নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিউলাইটিস, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। এতে হাসপাতালগুলোতে এ ধরনের রোগী স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে গত বুধবার এক দিনে ৩০ জনের বেশি ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই দিন দুপুর পর্যন্ত চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে রোগী ছিল ৮৪ জন। তার মধ্যে অর্ধেকের বেশি ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত বলে চিকিৎসকেরা জানান।
চমেক শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডাজনিত ব্রঙ্কিউলাইটিস, নিউমোনিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। বুধবার এ ধরনের ৩০ জনের মতো রোগী ভর্তি হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার একই বিভাগে রোগী ছিল শতাধিক। অথচ এখানে শয্যা রয়েছে মাত্র ৬৫টি। সরেজমিনে দেখা গেছে, এক শয্যায় দুটি করে শিশুও রাখা হয়েছে। অন্তর্বিভাগ ছাড়া বহির্বিভাগেও ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে রোগী আসছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। নগরের অপর একটি প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালেও রোগী বেড়েছে কয়েক গুণ। এই হাসপাতালে শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে ২৫০ শয্যা রয়েছে। সবগুলো শয্যায় গতকাল রোগী ভর্তি ছিল।
বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সাঈদ বলেন, ‘শীত আসার পর নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিউলাইটিস, অ্যাজমা, ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়ার রোগী ২০-৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। প্রতিদিন যত রোগী ভর্তি, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত।’
হাসপাতালটির বহির্বিভাগেও প্রতিদিন গড়ে ২৫০ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। তাদের মধ্যেও ঠান্ডাজনিত রোগী বেশি বলে জানা গেছে। নিউমোনিয়া কিংবা ব্রঙ্কিউলাইটিসের প্রাথমিক অবস্থায় অনেকে বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়ে চলে যাচ্ছে। গুরুতর হলে সেখান থেকে এখানে পাঠানো হচ্ছে।
এখানে ভর্তি এক শিশুর মা রহিমা বেগম বলেন, ‘দু-তিন ধরে সর্দিকাশি ছিল। পড়ে শ্বাসকষ্ট হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করায়।’ হাসপাতালের পাশাপাশি বিভিন্ন চিকিৎসকের চেম্বারেও এ ধরনের রোগী বেড়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে চট্টগ্রামে তাপমাত্রা কমেছে। এতে করে ঠান্ডার পরিমাণও বেড়েছে। বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঠান্ডার কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শূন্য থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুরা। এ সময় শিশুদের অধিক যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
প্রণব কুমার চৌধুরী বলেন, ‘শিশুদের বিশেষ করে এক বছর বয়সীদের যাতে ঠান্ডা না লাগে, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। হাত-পায়ে মোজা পরাতে হবে। আবার ঘামে কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।’
সূত্র - প্রথম আলো

