
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক (মেডিক্যাল অফিসার) মাত্র চারজন। গড়ে ৫৬ হাজার ৩৬২ জনের জন্য একজন চিকিৎসক রয়েছেন। এর ওপর চারজনের দু’জন ব্যস্ত থাকেন ব্যবস্থাপনা কাজে। ফলে চিকিৎসাসেবা পায় না উপজেলার লাধিক মানুষ।
নড়াইল জেলা তথা দণিবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা লোহাগড়া। ব্রিটিশ আমল থেকে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সব ক্ষেত্রে এ উপজেলার অবদান অগ্রগণ্য। যে কারণে পাশের গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাগুরা জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে মানুষজন ছুটে আসে এখানে। আর এখানেই স্বাস্থ্য বিভাগের করুণ অবস্থা চলছে।
উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য বিভাগের পদ থাকলেও কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। একমাত্র দিঘলিয়া ইউনিয়নে একজন থাকলেও অবকাঠামো না থাকার অজুহাতে গত দুবছর সেখানে তিনি যাননি। যদিও সেখানে পরিবারকল্যাণ বিভাগের বিশাল অবকাঠামো রয়েছে। ২০১০ সালে সরকার এডহক ভিত্তিতে প্রতি ইউনিয়নে চিকিৎসক নিয়োগ দিলেও সবাই তদবির করে অন্যত্র চলে যায়। উপজেলা কমপ্লেক্সে ৯টি পদের মধ্যে কাজ করছেন চারজন। এর মধ্যে একজন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে রোগী দেখার সময় পান না। আর অন্য আরেকজন আবাসিক চিকিৎসক হওয়ায় ব্যস্ত থাকেন তার নির্ধারিত কাজে। চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ৩০০ রোগী দেখেন মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্টরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনাতেও ল করা যায় অবনতি। চিকিৎসকেরা বেশির ভাগ সময়ই নিয়ম মেনে হাসপাতালে আসেন না, কিন্তু তাদের পাওয়া যায় পার্শ্ববর্তী কিনিকগুলোতে। ওষুধ কো¤পানির প্রতিনিধিরা কাজের সময় হাসপাতালে ভিড় জামান। কিনিক আর বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের দালালের জন্য রোগীরা স্বাভাবিকভাবে কোনো সেবা পান না।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা: শহিদুল ইসলাম বলেন, জনবলের অভাবে সব কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এখানে চিকিৎসকেরা আসতে চান না। আর এলেও থাকতে চান না। তদবির করে অল্প সময়েই চলে যান। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় এমপি হলেও কয়েক বছরে তিনি কোনো সময় না দেয়ায় ব্যবস্থাপনা কমিটির কোনো সভা হয়নি।
তার ওপর ৩০ শয্যার হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করার অবকাঠামোগত কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা আর পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে সংশ্লিষ্ট সবাই আশঙ্কা করছেন।
সূত্র -dailynayadiganta.com

