গাইবান্ধার সিভিল সার্জনের অপসারণের দাবিতে গতকাল রোববার সকাল ছয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত শহরের সব ওষুধের দোকান বন্ধ রেখে ধর্মঘট, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। গাইবান্ধা জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতি ও জেলা ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
শহরের ডিবি রোডের হকার্স মার্কেটের সামনে মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন ফারিয়ার সভাপতি ফুয়াদ আরমান, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, গাইবান্ধার সিভিল সার্জন আহাদ আলী ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস এবং বিভিন্ন দিবস পালনের অজুহাতে জেলার ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করেন। এ বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালন উপলক্ষে দ্বিগুণ চাঁদা দাবি করা হয়। কিন্তু ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সিভিল সার্জন প্রতিনিধিদের হুমকি দেন এবং অশালীন আচরণ করেন। এ ছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসকদের ১৭টি ওষুধ কোম্পানির ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে না লিখতে নির্দেশ দেন। এর প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, সিভিল সার্জনের এই অনিয়মের প্রতিবাদে ফারিয়াভুক্ত ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ১৭ এপ্রিল থেকে ওষুধের দোকানগুলোতে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন। সরবরাহ না পেয়ে ওষুধ ব্যবসায়ীরাও দোকান বন্ধ রেখে কর্মসূচিতে যোগ দেন। সিভিল সার্জনের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন আহাদ আলী বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে সন্ধানী ডোনার ক্লাবের একটি বই বের হয়। এতে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির শুভেচ্ছা বিজ্ঞাপন ছাপা হয়। কিন্তু ছয় মাস বিল বকেয়া রাখা হয়। আমি সন্ধানী ডোনার ক্লাবের সভাপতি হিসেবে বিলের জন্য তাগাদা দিই। কিন্তু ফারিয়ার নেতারা স্থানীয়। তাঁরা কোম্পানির কর্মকর্তাদের বিল প্রদানে নিষেধ করেন। এমনকি তাঁদের প্রভাবে বাইরের প্রতিনিধিরা এখানে কাজ করতে পারেন না। তাই যেসব কোম্পানি বিল বকেয়া রেখেছে, সেসব কোম্পানির ওষুধ না লিখতে ও তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করতে মৌখিকভাবে চিকিৎসকদের জানাই। অথচ ফারিয়া আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
সূত্র - প্রথম আলো

