দেশে এখন রাজনীতির পরিবেশ উত্তপ্ত। কিন্তু সে উত্তাপে মোটেই উষ্ণ হচ্ছে না আবহাওয়া। রাজনীতির গরম হার মেনেছে শীতের দাপটের কাছে। কনকনে ঠান্ডা তো আছেই, তার ওপর সপ্তাহ খানেক ধরে ঘন কুয়াশা আড়াল করে রেখেছে সূর্য। আচ্ছন্ন হয়ে আছে চরাচর। রাজনীতি ও প্রকৃতির এই বৈশিষ্ট্যে যতই বৈপরীত্য থাক না কেন, বেলা শেষে ফলাফলটি অভিন্ন। জনজীবনে নেমে এসেছে প্রচণ্ড দুর্ভোগ। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের কষ্ট প্রায় সীমাছাড়া।
রাজনীতির চলমান পরিস্থিতি এবং সরকারের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস—কোনোটাই সুখবর দিচ্ছে না। হরতাল-অবরোধ যেমন মাঝেমধ্যে দু-এক দিন বিরাম নিয়ে চলছেই, তেমনি হঠাৎ দু-এক দিন আকাশে সূর্যের দেখা মিললেও কুয়াশার ঘোর আর কাটছে না। কমছে না শীতের তীব্রতা। বিঘ্নিত হচ্ছে খেটে খাওয়া গরিব মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা। এদিকে রাজনৈতিক কারণে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় এবার শীতপ্রধান উত্তরাঞ্চলের শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণের কাজও ব্যাহত হয়েছে।
গতকাল শুক্রবারও সকাল থেকেই ঘন কুয়াশা আর থেমে থেমে হিমেল হাওয়ার দাপটে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
দুর্যোগ পর্যবেক্ষণকারী একটি সরকারি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গত নয় দিনে সারা দেশে শীতে ১৯ জন মারা গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করে তারা এই তথ্য পেয়েছে। তবে প্রথম আলোর রংপুর, কুড়িগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহে শীতজনিত রোগে মৃতের সংখ্যা ৬২-তে পৌঁছেছে। এদের বেশির ভাগ নবজাতক শিশু। জন্মের দুই থেকে এক দিনের মাথায় হাসপাতালে তারা মারা গেছে।
টানা অবরোধে আমন ধান ও সবজি নিয়ে কৃষক আগে থেকেই বিপদে আছেন। পানির দামে ফসল বিক্রি করছেন তাঁরা। রাজনীতির এই বিপদের সঙ্গে এবার শৈত্যপ্রবাহের আপদ যুক্ত হয়েছে। মাঠে এখন আলুর বীজ থেকে চারা গজিয়েছে। বোরো ধানের বীজতলা প্রায় শেষের দিকে। কিছুদিনের মধ্যেই তা জমিতে রোপণ করা হবে।
টানা শৈত্যপ্রবাহের ফলে আলু ও বোরো ধানের বীজ ‘কাণ্ড পচা বা ‘ব্লাইট’ রোগের হুমকিতে পড়েছে। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের কৃষি পূর্বাভাস শাখা আলুর চারাকে ব্লাইট রোগের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে জমিতে ছত্রাকনাশক দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। আর বোরোর বীজতলা বাঁচাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর বলছে, দেশের বেশির ভাগ এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ আজ শনিবারও অব্যাহত থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও দিনের তাপমাত্রা একই থাকবে। তবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা হলেও বাড়তির দিকে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় আর গতকাল ছিল দিনাজপুরে।
গতকালের মতো আজও শ্রীমঙ্গল ও দিনাজপুর অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ এবং সীতাকুণ্ড, রাঙামাটি, খুলনা, মাদারীপুর, খেপুপাড়া, যশোর, কুষ্টিয়া অঞ্চলসহ রাজশাহী বিভাগ ও রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, এই শৈত্যপ্রবাহ আরও এক দিন চলবে। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে পারে। তবে মাসের শেষে আরেকটি মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে সারা দেশের ওপর দিয়ে।
সূত্র - প্রথম আলো

