ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাড়ে ৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জরুরী সেবা সব সব রকম সেবা বন্ধ ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিএমএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের বৈঠকে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসের পর চিকিৎসকরা কাজে ফিরে যান। এসময় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জরুরী রোগী ভর্তি হতে এলেও সেবা না দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। এর আগে ‘ডাক্তারদের লিফট’-এ রোগীর স্বাজন উঠে পড়া নিয়ে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি হয়। এতে আহত হন দু’জন। পরে খবর পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এসে হামলা চালায় জরুরী বিভাগে। তারা এসময় হাসপাতাল ভাঙচুর করে। এর প্রতিবাদে সাড়ে ১২ টা থেকে জরুরী সেবা সহ সব রকম সেবা বন্ধ করে দেন চিকিৎসকরা। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া পর্যন্ত কর্ম বিরতিতে যান তারা।
ঢাবির শিক্ষার্থীরা জানান, সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-২ এর ১০ তলায় চিকিৎসকদের জন্য নির্ধারিত লিফটে ওঠা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লিফ্ট থেকে নেমে যেতে বলেন। এক পর্যায়ে এক শিক্ষার্থীর কলার চেপে ধরলে হাতাহাতি ও মারামারির হয়। চিকিৎসকদের মারধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. জসিম ও আশিক নামের দুজন আহত হন। তারা শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সিরাজের মা ও ১০ তলায় ক্যাবিনে ভর্তি রোগী আমেনা বেগমকে দেখতে এসেছিলেন। এ ঘটনার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টার পর দ্বিতীয় দফায় মারামারির ঘটনা ঘটে। এসময় ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার দু’জন সংবাদকর্মীও আহত হন। ঢাবি ছাত্ররা হাসপাতালে ভাঙচুর চালানোর পরে জরুরি বিভাগের গেট বন্ধ করে দেন শিক্ষানবীশ চিকিৎসকরা। এতে দুর্ভোগে পড়েন সেবা নিতে আসা হাজার হাজার রোগীরা। হাসপাতালের ভেতরে লাঠি ও লোহার রড নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অবস্থান করেন। বাইরে অবস্থান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সূত্র - দৈনিক মানবজমিন

